রাজ্যের খবর

আদিবাসী উন্নয়নে জোর, নদিয়াতে শুরু ভাগিদারি অভিযানের সূচনা, মিলবে একাধিক পরিষেবা

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদিয়ার মোট পাঁচটি ব্লকে একযোগে এই কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।

Truth of Bengal: আদিবাসী অধ্যুষিত পিছিয়ে পড়া ও দুর্গম এলাকায় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে নদিয়ার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের কুলেচাঁদপুরে শুরু হল কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ প্রকল্প শিবির। কুলেচাঁদপুর জুনিয়র হাই স্কুল প্রাঙ্গণে চালু হয়েছে ‘জন ভাগিদারি সবসে দূর, সবসে পেহলে’ প্রকল্প। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদিয়ার মোট পাঁচটি ব্লকে একযোগে এই কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রের দাবি, এই প্রকল্পের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন আদিবাসী কল্যাণমূলক প্রকল্পও যুক্ত করা হয়েছে। যেসব আদিবাসী গ্রামে এখনও সরকারি সুযোগ-সুবিধা ঠিকভাবে পৌঁছয়নি, সেখানে সরাসরি প্রশাসন পৌঁছে গিয়ে পরিষেবা প্রদান করতেই এই উদ্যোগ।

নদিয়া জেলা বিজেপির সাংগঠনিক মুখপাত্র ও কোঅর্ডিনেটর অমিত প্রামাণিক জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পানীয় জল এবং সামাজিক সুরক্ষামূলক পরিষেবাগুলি পিছিয়ে থাকা আদিবাসী সমাজের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদিয়ায় নাকাশিপাড়া ব্লকের মিরাইপুর আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কৃষ্ণনগর-২ ব্লকের দলিমৌলা-ঝিটকিপোতা আদিবাসী প্রাথমিক স্কুল, কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের বাগাডাঙা-কাপাসডাঙা প্রাথমিক স্কুল ও কুশি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের কুলেচাঁদপুর জুনিয়র হাই স্কুল এবং চাকদহ ব্লকের মহানালা আদিবাসী বিদ্যালয়ে এই বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে।

শিবিরগুলিতে বিভিন্ন সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের পরিষেবা সরাসরি আদিবাসীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, কোনও ক্ষেত্রে শিবির থেকে তাৎক্ষণিক পরিষেবা দেওয়া সম্ভব না হলে ব্লক, মহকুমা কিংবা জেলা স্তর থেকে দ্রুত তা মিটিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই পাঁচটি ব্লকে নিয়মিতভাবে শিবির আয়োজন করা হবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর। সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা আদিবাসী পরিবারগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিষেবা দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। শিবিরে প্রতিদিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা পরিষেবাও প্রদান করা হবে। এছাড়াও শিবিরের মাধ্যমে স্থানীয় আদিবাসী বাসিন্দাদের জন্য আলাদা করে জন শুনানির আয়োজন করা হয়েছে। সেই শুনানিতে এলাকার সমস্যা, পরিষেবা সংক্রান্ত ঘাটতি কিংবা পরিকাঠামোগত প্রয়োজনের বিষয়গুলি তুলে ধরার সুযোগ পাবেন বাসিন্দারা। পরে সেই সমস্যার তালিকা তৈরি করে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে ব্লক ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত পাঁচদিন ধরে এই শিবির চলবে। প্রশাসনের দাবি, প্রকল্প সফল করতে প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নদিয়া জেলায় এই কর্মসূচি প্রথমবার বাস্তবায়িত হওয়ায় প্রশাসনিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Related Articles