Mausuni Island: কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে মুখে হাসি ফুটল! তৈরি হবে স্থায়ী কংক্রিটের বাঁধ
দীর্ঘ আন্দোলনের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত এলাকার মানুষ
Truth of Bengal: দীর্ঘদিনের আন্দোলন, আশ্বাস আর অপেক্ষার অবসান ঘটলো অবশেষে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে মুখে হাসি ফুটল সুন্দরবনের প্রত্যন্ত মৌসুনি দ্বীপের ( Mausuni Island) মানুষের। ২০২১ সালের বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে ভেঙে পড়েছিল দ্বীপের মাটির নদীবাঁধ, প্লাবিত হয়েছিল গোটা এলাকা। নদীর নোনা জলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল গ্রামের ফসল, মাছ চাষ, ও বসতবাড়ি। সেই থেকেই দ্বীপবাসীর একটাই দাবি—স্থায়ী কংক্রিটের নদীবাঁধ।
[আরও পড়ুনঃ Israel: ভারতের ভুল মানচিত্র প্রকাশ করায় ক্ষমা চাইলো ইসরায়েলি সেনাবাহিনী]
এই দাবিকে কেন্দ্র করে আইনজীবী রাজেশ ক্ষেত্রী ২০২১ সালে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। চার বছরের দীর্ঘ শুনানি শেষে অবশেষে বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি স্মিতা দে দাসের ডিভিশন বেঞ্চ এক ঐতিহাসিক রায় দেন। রায়ে স্পষ্টভাবে জানানো হয়—মৌসুনি দ্বীপে ( Mausuni Island) স্থায়ী কংক্রিটের নদীবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। দ্বীপবাসীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব না ফেললে একটি সেতু নির্মাণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে হবে। মৌসুনি দ্বীপের সার্বিক পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এই নির্দেশের পরেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, এই রায় শুধু আইনি জয় নয়, এটি তাঁদের জীবনের নিরাপত্তা, ভবিষ্যতের আশ্বাস। দীর্ঘ আন্দোলনের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত এলাকার মানুষ।
[লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal]
আইনজীবী রাজেশ ক্ষেত্রী জানান, ‘ ২০২১ সালের ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ের সময় আমরা দ্বীপে (Mausuni Island) গিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করি। কংক্রিটের বাঁধ না থাকার কারণে প্রায়ই মাটির বাঁধ ভেঙে নদীর জল ঢুকে পড়ে গ্রামে। ফসল, মাছ, ঘরবাড়ি সবকিছু নষ্ট হয়ে যায়। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও ছিল প্রায় না থাকার মতো। সেই কারণেই আমরা হাইকোর্টে এই মামলা করি। আজকের এই রায় মৌসুনির মানুষের জয়।‘ এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জয় পাইক বলেন, ‘ হাইকোর্টের নির্দেশে আমরা ভীষণ খুশি। যদি কংক্রিটের বাঁধ হয়, তাহলে আমাদের গ্রাম আর প্লাবিত হবে না। চাষের জমি আর নষ্ট হবে না। যদি একটি ভালো স্বাস্থ্যকেন্দ্র হয়, তাহলে সঠিক চিকিৎসাও পাওয়া যাবে। আর সেতু হলে আমাদের যাতায়াত সহজ হবে, পর্যটনও বাড়বে।‘ মৌসুনি দ্বীপে কেবল উন্নয়নের নয়, নিরাপদ ভবিষ্যতের আশ্বাস নিয়ে এসেছে এই রায়। দ্বীপবাসীরা এখন আশাবাদী—সরকার দ্রুত হাইকোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবে, আর মৌশুনী হয়ে উঠবে আরও সুন্দর, আরও সুস্থ, ও আরও সংযুক্ত এক দ্বীপ।






