সম্পাদকীয়

Bengali Eating Habits: কী খাবো আর কী খাবো না ভাবতে ভাবতে বাঙালি আজ বড়ই বিপন্ন

সেই দিনটা আর নেই যে ভোর হলে লোটাভরে দুধ আর এক চুপড়ি জিলিপি খেয়ে দিনটা শুরু করা যাবে

Truth Of Bengal: একটা সময় ছিল যখন বাঙালির অভিধানে ডায়েটিশিয়ান বা নিউট্রিশিয়ান শব্দগুলি ঢুকে যায়নি। বাঙালি তখন যা জুটতো তাই খেত।(Bengali Eating Habits) খাওয়াদাওয়ার অত বাছবিচার ছিল না। সুষম আহার বলে যে একটি জিনিস থাকতে পারে বাঙালি তা জানতো না বা জানার আগ্রহও ছিল না। ডায়েটিশিয়ান আর নিউট্রাশিয়ানরা আসার পর বাঙালি বুঝতে শিখলো যে তার গ্রহণ করা খাদ্যবস্তুর মধ্যে বেশির ভাগই অসার। সারাজীবন যে বাঙালি শুনে এসেছে– দুধে কান্তি, ঘিয়ে বল, শাকে-ভাতেতে বাড়ায় মল- সেই বাঙালি আজ দুধ থেকে দূরে।

অযথা ফ্যাট বাড়ানোর কারণ গরম গরম দুধ খাওয়া তার বারণ। সেই দিনটা আর নেই যে ভোর হলে লোটাভরে দুধ আর এক চুপড়ি জিলিপি খেয়ে দিনটা শুরু করা যাবে। (Bengali Eating Habits) কিংবা এক থালা ভাত উড়িয়ে দেওয়া যাবে খাঁটি গব্য ঘৃত সমেত। ঘিয়ে নাকি স্নেহজাতীয় পদার্থ অধিক থাকে। তাই ঘি বর্জিত আহারই স্বাস্থ্য সম্মত। তাজা শাক সবজি অত্যন্ত উপকারী। তাই চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ান অথবা নিউট্রিশিয়ানদের নিদান, পাতে তাজা শাক সবজি রাখতে হবে। শাক-ভাতেতে বাড়ায় মল– মাথায় থাক! তাজা শাক সবজি মাস্ট খাদ্য তালিকায়।

আরও পড়ুন: Weather Update: বিকেলেই তুমুল ঝড় বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গে খবর আবহাওয়া দফতর সূত্রে

বাঙলির প্রধান খাদ্য ভাতেও হাত পড়েছে চিকিৎসকদের। দু’বেলা ভাত খাওয়ায় যতি। দিনের বেলাও ভাত খেতে হবে মেপে। এক বাটির বেশি কদাপি নয়। সঙ্গে এক বাটি খোসা ছাড়ানো ডাল, শাক সবজি আর ছোট মাছের সাদা ঝোল। ভাতের পাতে মাছের মুড়ো চিবনো বন্ধ। রুই, কাতলা, মৃগেল তবু চলতে পারে কিন্তু কখনও সাইজে যেন তারা বড় না হয়। আলু বিষবৎ পরিত্যাজ্য। তাই ঝোলে আলু যোগ করা নাস্তি। সকালের জলখাবারে ময়ান দেওয়া লুচি আর আলুভাজা কিংবা ফোড়ন দেওয়া সাদা আলুর ছেচকি খাওয়ার দিন শেষ। (Bengali Eating Habits)সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস লেবু জল পান করে নিদেনপক্ষে ঈষদুষ্ণ গরমসাদা জল খেয়েই দিনটা শুরু করা বিঁধেয়।

আগে শুনতাম বিহারিরা কিংবা গরিব বাঙালি রাতে রুটি খায়। এখন বাঙালির জন্যই ধার্য রাতের বেলা একটি বা দুটি হাতে গড়া রুটি আর সবজি। দেখছেন না পাড়ায় পাড়ায় কত হাতরুটির দোকান হয়ে গেছে। চিকেন স্টু কিংবা পাতলা সাদা ঝোল চলতে পারে। কিন্তু মটন নৈব নৈব চ। পাঁঠার মাংসের কালিয়া কিংম্বা পিঁয়াজ-রসুন দিয়ে গরগরে ঝোল খাওয়ার দিন শেষ। রেড মিট কোলেস্টেরল বাড়ায় তাই এই নিদান।

Bangla Jago fb: https://www.facebook.com/truthofbengal

বাঙালির প্রিয় বিরিয়ানিতেও নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছে। চিকেন বিরিয়ানি তবু মাসে এক আধবার চলতে পারে। কিন্তু মটন বিরিয়ানির মটনে মৃত্যু আর বিরিয়ানিতে বিষ- এক বিখ্যাত কার্ডিওলজিস্ট-এর এই নিষেধাজ্ঞা বাঙালি অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলার চেষ্টা করে। শুধু যেদিন বৃষ্টি পড়ে সেদিন বিরিয়ানি আর যেদিন বৃষ্টি পড়ে না সেদিন বিরিয়ানি। কার্ডিওলজিস্ট যতই চেঁচান মটন বিরিয়ানির বিরুদ্ধে বাঙালিকে বিরিয়ানি বিযুক্ত করা আজও তো সম্ভব হল না। স্রেফ মটন বিরিয়ানি খেয়ে বাঙালি মরছে। তবু তাদের হুঁশ ফিরছে না। কলকাতার এক তরুণ সাংবাদিকের মৃত্যু হল শুধু মটন বিরিয়ানি খেয়ে। তবু, বিরিয়ানির মোহে বাঙালি আজও পাগল। বৃষ্টি হলেই বা মেঘের গুড়গুড় আওয়াজ হলেই চালে ডালে খিচুড়ি বসিয়ে দেওয়ার একটি প্রবণতা বাঙালির আছে। খিচুড়ি আর ডিম ভাজা বাঙালির বর্ষার এই প্রিয় ফুড মেনুর দিকেও ডায়াটেশিয়ানদের নজর পড়েছে। খিচুড়ি নাকি গুরুপাক।

তাই, ডালিয়ার খিচুড়ি তবু চলতে পারে। কিন্তু চাল ডালের খিচুড়ি কিছুতেই নয়। সকালে ডিম সিদ্ধ, ডিমের ওমলেট কিংবা পোচ অথবা হাফবয়েল এতদিন চলতো ব্যালান্সড ফুড হিসেবে। ডিমে কোলেস্টেরল বাড়ে তাই ডিম খাওয়াও বারণ। ডিমের সাদা অংশটা তবু চলতে পারে। কুসুম ছাড়া ডিম বাঙালির কাছে যেন আলুনি মাংস। তা হলে আর বাকি রইল কী! তাজা ফলমূল খাওয়া যেতে পারে। কোনও বাঁদরের হার্ট আটাক হওয়ার খবর শুনেছেন কী! কিন্তু ফলমূলের যা দাম! নুন আনতে বাঙালির তো পান্তা ফুরোনোর জোগাড়। তা হলে বাঙালি খাবে কী! আলু, ঘি, দুধ, ডিম, বড় মাছ, পাঁঠার মাংস, খিচুড়ি সবেতেই রেড সিগন্যাল। তা হলে ঝালে ঝোলে বাঙালির কী দশা হবে? বাঙালি জাতি আজ বড় বিপন্ন। পথ দেখাবে কে!