রাজ্যের খবর

প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়তেই তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্কে ইতি টানতে চলেছে মঞ্জু বসু

এরপর টানা তিনবার বিধায়ক হিসেবে নিজের এলাকায় মজবুত জনসংযোগ তৈরি করেছিলেন।

Truth Of Bengal: স্বামীর হত্যার বিচার পাওয়ার জেদ থেকে রাজনীতিতে আসা এবং দীর্ঘ ২৫ বছর ঘাসফুল শিবিরের একনিষ্ঠ সৈনিক হিসেবে লড়াই করার পর অবশেষে অপমানের ক্ষোভ নিয়ে তৃণমূল ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেন নোয়াপাড়ার প্রবীণ বিধায়ক মঞ্জু বসু। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নোয়াপাড়া কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেস মঞ্জুদেবীকে টিকিট না দিয়ে দলের ছাত্র সংগঠনের রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করেছে। এই সিদ্ধান্তের পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মঞ্জু বসু। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ারে এই প্রথম ছেদ পড়ল। যদিও তিনি অন্য কোনো দলে যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানাননি, তবে দলের ওপর তাঁর অভিমান এখন স্পষ্ট।

২০০০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল সভাপতি বিকাশ বসুর খুনের ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল। সেই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন তাঁর স্ত্রী মঞ্জু বসু। ২০০১ সালে বামেদের দুর্গ ভেঙে প্রথমবার বিধায়ক হয়ে চমক দিয়েছিলেন তিনি। এরপর টানা তিনবার বিধায়ক হিসেবে নিজের এলাকায় মজবুত জনসংযোগ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। বিশেষ করে বারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিকের ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচিতে তাঁকে গুরুত্ব না দেওয়া এবং ধর্মতলায় খোদ নেত্রীর মঞ্চে প্রণাম করতে গিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঘটনা মঞ্জুদেবীকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।

প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে মঞ্জু বসু জানান, জনসমক্ষে তাঁকে যেভাবে অপমান করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, যদি আগে জানতেন যে তাঁকে আর প্রার্থী করা হবে না, তবে অনেক আগেই তিনি দল ছেড়ে দিতেন। স্বামীর মৃত্যুর বিচার পাওয়ার দীর্ঘ লড়াই প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “সর্ষের মধ্যেই ভূত থাকলে বিচার পাওয়া কঠিন।” ২৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনের এই তিক্ত পরিণতি নোয়াপাড়ার রাজনীতিতে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একসময়ের লড়াকু এই নেত্রীর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে চলেছে, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।