রাজ্যের খবর

মহুয়া-পিকের ‘ভুয়ো’ চ্যাট বিতর্ক, নয়ডায় অভিযুক্তকে ধরতে গিয়ে বিপাকে কৃষ্ণনগর পুলিশ

৯ ফেব্রুয়ারি থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি উপস্থিত হননি এবং পুলিশের সঙ্গে কোনও যোগাযোগও করেননি বলে অভিযোগ।

মাধব দেবনাথ, নদিয়া: মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে প্রশান্ত কিশোরের ভুয়ো চ্যাট সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করার অভিযোগে নয়ডার যুবককে ধরতে গিয়ে বিপাকে বাংলার পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই রাজ্যের পুলিশের সমন্বয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জানা গিয়েছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে তিনি জানান, নয়ডার বাসিন্দা সুরজিৎ দাশগুপ্ত নামে এক ব্যক্তি সামাজিক মাধ্যমে একটি চ্যাট প্রকাশ করেছেন, যেখানে তাঁর ও প্রশান্ত কিশোরের মধ্যে কথোপকথন দেখানো হয়।পুলিশ সূত্রে খবর, কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার ডিজিটাল ফরেনসিক বিভাগ ওই চ্যাট পরীক্ষা করে সেটিকে সম্পূর্ণ ভুয়ো ও মনগড়া বলে নিশ্চিত করে। এরপর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং তাকে নোটিস পাঠানো হয়। ৯ ফেব্রুয়ারি থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি উপস্থিত হননি এবং পুলিশের সঙ্গে কোনও যোগাযোগও করেননি বলে অভিযোগ।

পরবর্তীতে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করায় কৃষ্ণনগর পুলিশ। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানার চার সদস্যের একটি বিশেষ দল নয়ডায় যায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় তাদের।পুলিশের দাবি, নয়ডার স্থানীয় পুলিশের হস্তক্ষেপে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ, ফেজ-টু থানা এলাকার চৌকি নম্বর ১১০-এর পুলিশ সদস্যরা কৃষ্ণনগরের দলকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন এবং অভিযুক্তকে পালাতে সাহায্য করেন। এমনকি আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রায় দেড় ঘণ্টা থানায় বসিয়ে রাখা হয় বলে দাবি।

কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার আইসি জানিয়েছেন, স্থানীয় পুলিশ নাকি রাজনৈতিক উচ্চ মহলের নির্দেশের কথা জানিয়ে গ্রেফতারিতে বাধা দেয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি বিজেপির স্থানীয় মিডিয়া সেলের সঙ্গে যুক্ত বলেও দাবি পুলিশের।বর্তমানে কৃষ্ণনগরের বিশেষ দল এখনও নয়ডায় অবস্থান করছে এবং অভিযুক্তকে ধরতে তল্লাশি চালাচ্ছে।বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। আদালতের নির্দেশ মেনে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Related Articles