রাজ্যের খবর

পদ্মার গ্রাসে বিঘার পর বিঘা চাষের জমি, স্পিডবোটে চেপে দুর্গতদের দুয়ারে সাংসদ আবু তাহের

কলাই থেকে একাঙ্গী চাষে অকাল বিপর্যয়! ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলেন সাংসদ!

কল্যাণ বিশ্বাস, মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদের জলঙ্গিতে পদ্মা নদীর জল বেড়ে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। নদীর জল ঢুকে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি জলমগ্ন হওয়ার পাশাপাশি বেশ কিছু ঘরবাড়িতেও জল ঢুকে পড়েছে।

দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সরজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ আবু তাহের খান। ​নৌকা নিয়ে এলাকা ঘুরে দেখার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমি ও জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন সাংসদ। তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন জলঙ্গি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কবিরুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষের প্রতিনিধি জাহাদুল, কৃষি কর্মাধ্যক্ষের প্রতিনিধি মোঃ আশিক ইকবাল-সহ পঞ্চায়েত সমিতির একাধিক সদস্য। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাদিখার দিয়ার গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যরা।

স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, ​জলমগ্ন ঘরবাড়ি ছেড়ে ইতিমধ্যে একাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন স্কুলে। সেখানে পৌঁছে আশ্রয়হীন পরিবারগুলির সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং খোঁজখবর নেন সাংসদ। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য চাল, ডাল, ত্রিপল, পোশাক ও আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়। আপৎকালীন এই পরিস্থিতিতে জনপ্রতিনিধিদের পাশে পেয়ে আশ্বস্ত হয়েছেন আশ্রয় নেওয়া দুর্গত মানুষগুলো।

​সাংসদ আবু তাহের খান বলেন, “এখানে মেডিকেল টিম আসে এবং দেখাশোনা করে, তার জন্য বিএমওএইচ-এর সঙ্গে কথা বলছি। এই পরিবারগুলো যাতে বিশুদ্ধ পানীয় জল পায়, সেই ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। কয়েকদিন থেকে প্রায় ৭৫টি পরিবার স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে। আমরা তাদের সবরকম ব্যবস্থাপনা করছি এবং কীভাবে আরও সহযোগিতা করা যায় তা দেখছি। প্রাথমিকভাবে দুর্গতদের কিছু ত্রিপল, জামাকাপড়, খাদ্যদ্রব্য ও কিছু অর্থ সাহায্য দিয়ে গেলাম। আগামী দিনে জেলাশাসক, মহকুমাশাসক, এবং ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন অধিকারীরা যেন সমস্ত প্রশাসনিক সহযোগিতা করেন, তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের পক্ষ থেকে মেডিকেল টিম পাঠানো এবং এলাকাকে স্বাস্থ্যকর রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

​কৃষকদের বিপুল ক্ষতির প্রসঙ্গে সাংসদ আবু তাহের খান বলেন, “এই অঞ্চলের একমাত্র অর্থকরী ফসল কলাই ও একাঙ্গী সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে কৃষিদফতরের আধিকারিককে বলার পর পরিদর্শনও করেছেন। ক্ষতির পরিমাণ সঠিক নির্ধারণ করে যাতে প্রতিটি চাষী ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পান, তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

Related Articles