কলকাতা

“৩৪ বছর দলীয় অফিস চালাত, আর শেষ ১৫ বছর…!”, বিধায়ক প্রশিক্ষণ শিবিরে বাম-তৃণমূলকে আক্রমণ শুভেন্দুর

বিধায়কদের প্রশিক্ষণ শিবিরে শুভেন্দুর মাস্টারক্লাস! দলমত নির্বিশেষে সবাইকে বাংলা গড়ার ডাক

Truth of Bengal: শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে শুরু হল নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে দুদিন ব্যাপী বিশেষ সংসদীয় প্রশিক্ষণ শিবির। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা প্রদীপ জ্বালিয়ে এই মেগা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এই শিবিরের মূল উদ্দেশ্য, নতুন বিধায়কদের সংসদীয় রাজনীতি, আইন প্রণয়ন এবং সংবিধানের রীতিনীতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেওয়া। এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সংসদের সচিবালয়কে ধন্যবাদ জানান। তবে নিজের ভাষণে বাংলার প্রাক্তন বাম ও তৃণমূল সরকারকে একযোগে নিশানা করতে ছাড়েননি তিনি। বাংলায় ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক কৃতিত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নতুন বিধায়কদের ভালো করে সংসদীয় কাজ শেখার পরামর্শ দেন।

“নিজের বিধানসভার নিন্দা করা শোভা পায় না”, খোঁচা দিয়েও সৌজন্য দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী

বিগত সরকারের সমালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বাংলার রাজনীতিতে প্রথমে ৩৪ বছর সবকিছু পরিচালিত হত বামেদের দলীয় অফিস আলিমুদ্দিন থেকে। আর তার পরের ১৫ বছরের (তৃণমূল জমানা) কথা আজ আর এখানে বিস্তারিত বলব না। কারণ এখানে নতুন বিরোধী দলনেতা আছেন, অন্য দলের বিধায়কেরাও আছেন। নিজের রাজ্যের বিধানসভার নিন্দা করা মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসে শোভা পায় না।”

“বিরোধী বিধায়কদের কোনও মর্যাদা ছিল না”, বিদায়ী জমানার ‘বঞ্চনা’ ফাঁস শুভেন্দুর

তৃণমূল জমানায় কীভাবে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা হত, এদিন সেই খতিয়ানও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “গত সরকারের আমলে বিরোধী সাংসদ বা বিধায়কদের কোনও ন্যূনতম মর্যাদা দেওয়া হত না। কোনও সরকারি প্রকল্প বা প্রশাসনিক কর্মসূচিতে স্থানীয় বিধায়কদের আমন্ত্রণ জানানো হত না, ডাকা হত শুধু রাজনৈতিক পরিচয় দেখে। এমনকি শেষ পাঁচ বছরে তৎকালীন বিরোধী দলনেতাকে (স্বয়ং শুভেন্দু) একটিও সরকারি কর্মসূচিতে ডাকা হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন শুরুর আগেই বারবার বিরোধী দলনেতাকে সাসপেন্ড করে দেওয়া হত।”

এই বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে শুভেন্দু অধিকারী সমস্ত বিধায়ককে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আজ দিন বদলেছে। প্রথমবার যাঁরা নির্বাচিত হয়ে এসেছেন, তাঁদের সংসদীয় রীতিনীতি ভাল করে শিখতে হবে। এই দুদিন আপনারা মন দিয়ে কাজ শিখুন। আমাদের সবাইকে একসঙ্গে মিলে এই রাজ্যকে আবার দেশের সেরা হিসেবে দাঁড় করাতে হবে।”

Related Articles