পুজোর মণ্ডপে ড্রোনের কড়া নজরদারি! বারাকপুরে পুজো নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন মন্ত্রী অর্জুন সিং
উৎসবের দিনগুলিতে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী
Truth of Bengal: দুর্গাপুজোর আনন্দে যাতে কোনওভাবেই বিঘ্ন না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে এবার বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করল বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট। বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি, মহিলাদের নিরাপত্তায় দুর্গাবাহিনীর বিশেষ তৎপরতা এবং শব্দদূষণ রুখতে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার বারাকপুরের সুকান্ত সদনে পুজো প্রস্তুতি সংক্রান্ত প্রশাসনিক বৈঠকে এই বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন রাজ্যের শ্রম ও পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং। উৎসবের দিনগুলিতে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। বিশেষ করে পুজো মণ্ডপ ও সংলগ্ন এলাকায় মহিলাদের সঙ্গে কোনও ধরনের অশালীন আচরণ, কটূক্তি কিংবা হেনস্তার অভিযোগ উঠলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে পুলিশকে। এই ধরনের ঘটনায় কোনওরকম শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না বলেও জানিয়ে দেন তিনি। মহিলাদের নিরাপদে পুজো দেখার পরিবেশ তৈরি করতে দুর্গাবাহিনীকে আরও সক্রিয় রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি মহালয়ার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় উচ্চস্বরে ডিজে বাজানোর প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। শব্দবিধি লঙ্ঘন করে উৎসবের নামে সাধারণ মানুষের অসুবিধা সৃষ্টি করা হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এদিনের বৈঠকে বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার অমিত কুমার সিং জানান, কমিশনারেটের অধীন ২৩টি থানা এলাকায় প্রায় তিন হাজার দুর্গাপুজোকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগমের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা হচ্ছে। বড় ও জনবহুল মণ্ডপগুলিতে বিশেষ নজরদারির পাশাপাশি ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুজো উদ্যোক্তাদের পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই কাঁচরাপাড়া ও হালিশহরের একাধিক বড় পুজোর প্রস্তুতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেছেন পুলিশ কমিশনার। দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বেরোনোর পথ, ভিড় সামলানোর ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, এদিন সুকান্ত সদনের অনুষ্ঠান থেকে ১১০০টি দুর্গাপুজো কমিটির প্রতিনিধিদের হাতে রাজ্য সরকারের অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়। যেসব পুজো কমিটি এখনও অনুদানের চেক পায়নি, তাদের কাছে স্থানীয় থানার মাধ্যমে তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী, বিধায়ক রত্না দেবনাথ ও কৌস্তভ বাগচী-সহ প্রশাসনের একাধিক পদস্থ কর্তা। এদিকে প্রশাসন সূত্রে খবর, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শিল্পাঞ্চলের চার থেকে পাঁচটি বড় দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে উপস্থিত থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতেও নিরাপত্তা প্রস্তুতি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।






