রাজ্যের খবর

Paschim Medinipur: প্রশাসনের ভরসায় না থেকে নিজেরাই গড়লেন সেতু! নদীর উপর বাঁশের সাঁকো বানালেন গ্রামবাসীরা

অস্থায়ী সেতু ভেঙে যাওয়ায় এতদিন এই অঞ্চলের মানুষকে নৌকা করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে নদী পারাপার করতে হচ্ছিল।

সুমন মন্ডল, ঘাটাল: পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা ২ নম্বর ব্লকের ঘোষকিরা গ্রামের বাসিন্দারা প্রশাসনের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে নিজেদের উদ্যোগেই শিলাবতী নদীর ওপর একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন। সম্প্রতি বন্যার কারণে নদীতে জল বেড়ে যাওয়ায় এখানকার অস্থায়ী কাঠের সেতুটি ভেঙে গিয়েছিল। ফলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগে পড়েন ঘোষকিরা, শীর্ষা, খুড়সি, ধর্মপোতা, কল্লা-সহ অন্তত ১০ থেকে ১২টি গ্রামের মানুষ।

অস্থায়ী সেতু ভেঙে যাওয়ায় এতদিন এই অঞ্চলের মানুষকে নৌকা করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে নদী পারাপার করতে হচ্ছিল। ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে মুমূর্ষু রোগী—সকলকেই নৌকার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছিল। এলাকার সাধারণ মানুষ এই সমস্যা সমাধানের জন্য বারবার প্রশাসনিক দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো ফল পাননি। শেষ পর্যন্ত কোনো সুরাহা না হওয়ায় গ্রামবাসীরা নিজেরাই চাঁদা তুলে এবং শ্রম দিয়ে বাঁশ ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করে যাতায়াতের জন্য এই নতুন বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করেন।

যদিও এই বাঁশের সাঁকো সাময়িক স্বস্তি এনে দিয়েছে, তবুও গ্রামবাসীদের দীর্ঘদিনের মূল দাবি হলো শিলাবতী নদীর ওপর একটি কংক্রিটের স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা। তাদের আক্ষেপ, স্বাধীনতার ৭৮ বছর পর ঘোষকিরা গ্রামে মাটির রাস্তা থেকে ঢালাই রাস্তা হলেও নদীর ওপর স্থায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থার কোনো সুরাহা হয়নি। এলাকাবাসী এখন কেবল স্থায়ী ব্রিজের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। তবে কবে সেই ব্রিজ তৈরি হবে, সেই উত্তর কারো কাছেই নেই।

চন্দ্রকোনা ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অলোক ঘোষ এই বিষয়ে বলেন যে, বন্যার কারণে ব্লকের বিভিন্ন এলাকার অস্থায়ী সাঁকোগুলি ভেঙে গিয়েছিল। প্রশাসনের উদ্যোগে বেশ কিছু জায়গায় সেগুলি মেরামত করা হয়েছে। ঘোষকিরা এলাকার শিলাবতী নদীর ওপর ব্রিজ তৈরির জন্য ঘাটাল মাস্টারপ্লানে আবেদন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

Related Articles