দেশ

ফের গণধর্ষণ দিল্লিতে! পুলিশ পরিচয় দিয়ে নাবালিকাকে পার্কে টেনে নিয়ে গিয়ে পাশবিক নির্যাতন

সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই আবার দিল্লিতে গণধর্ষণ! খাস রাজধানীতে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে বিরাট প্রশ্ন

Truth of Bengal: দেশের রাজধানী দিল্লিতে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ল। সপ্তাহখানেক আগেই এক ১৭ বছরের নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও নৃশংস খুনের পর যার দেহ কুকুরে খাওয়ার বীভৎস ঘটনা ঘিরে তোলপাড় হয়েছিল দেশ। সেই হাড়হিম করা ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের দিল্লিতে পুলিশ সেজে এক ১৭ বছরের নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল! এবার ঘটনাস্থল দক্ষিণ দিল্লির বিখ্যাত কালকাজি ইসকন মন্দিরের পাশের পার্ক। পুলিশ সেজে বন্ধুকে বন্দি রেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে নাবালিকার ওপর নারকীয় নির্যাতন চালানো হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের একজনকে ধরতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে সরাসরি গুলির লড়াই পর্যন্ত ঘটে যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সন্ধ্যায়। নির্যাতিতা ১৭ বছর বয়সি নাবালিকা পুলিশকে জানায়, সোমবার সন্ধ্যা প্রায় সাতটা নাগাদ সে এক বন্ধুর সঙ্গে কালকাজি ইসকন মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিল। পুজো শেষ করে সাড়ে সাতটা নাগাদ তারা মন্দিরের পাশেই অবস্থিত একটি পার্কে গিয়ে বসে। সেই সময়েই আচমকা পুলিশের পরিচয় দিয়ে হাজির হয় তিন যুবক। নিজেদের পুলিশ আধিকারিক দাবি করে দু’জনকে ভয় দেখাতে শুরু করে ওই তিন ব্যক্তি। এরপর নাবালিকার বন্ধুকে জোরপূর্বক আটকে রেখে ও ভয় দেখিয়ে পার্কের নির্জন কোণায় নিয়ে গিয়ে পরপর তিনজন মিলে গণধর্ষণ করে। প্রায় ঘণ্টাখানেকেরও বেশি সময় ধরে চলে এই পাশবিক নির্যাতন।

সোমবার গভীর রাতেই কোনওক্রমে সেখান থেকে পালিয়ে নির্যাতিতা নিজেই পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করে সমস্ত ঘটনা জানায়। কালবিলম্ব না করে পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল পরীক্ষার পর বয়ান রেকর্ড করে পকসো (POCSO) আইনে সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়। তদন্তে নেমে এলাকার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখে তিন অভিযুক্তকে শনাক্ত করে দিল্লি পুলিশ।

মঙ্গলবার সকালে অভিযুক্তদের মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করতে গেলে সে পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে! পালটা এনকাউন্টার ও গুলির লড়াইয়ের পর অবশেষে রক্তাক্ত অবস্থায় অভিযুক্তকে কাবু করে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। ধৃতদের বয়স ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। খাস দিল্লিতে পুলিশের পরিচয় দিয়ে ঘুরে বেড়ানো এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করার ঘটনা সামনে আসতেই রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক গম্ভীর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Related Articles