মন্দারমণিতে বেড়াতে গিয়ে ভয়ঙ্কর বিপত্তি! সমুদ্রে নেমে মৃত্যু নাবালকসহ ২ জনের
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একটি রিসর্টের সামনে সমুদ্রে স্নান করছিলেন তাঁরা
Truth of Bengal: ফের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা মন্দারমণিতে। সমুদ্রে স্নান করতে নেমে মৃত্যু হল দু’জনের, তাঁদের মধ্যে রয়েছে এক নাবালকও। এখনও নিখোঁজ আরও এক ব্যক্তি। তাঁকে খুঁজতে স্পিডবোট নিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। গভীর নিম্নচাপের জেরে সমুদ্র উত্তাল থাকায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে উঠেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেলে মন্দারমণির ৩ নম্বর ঘাটে ঘটনাটি ঘটে। দিঘা থেকে টোটো ভাড়া করে মোট আটজন মন্দারমণিতে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন সুমন শীল, বৃষ্টি শীল এবং বছর দশেকের সোমনাথ হালদার।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একটি রিসর্টের সামনে সমুদ্রে স্নান করছিলেন তাঁরা। আচমকাই জোয়ারের টানে তিনজন গভীর জলের দিকে তলিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহায্যে সোমনাথকে উদ্ধার করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বালিসাই বড় রাঙ্গুয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। সোমনাথের বাবা সন্তু হালদার জানিয়েছেন, ছেলে প্রথমে সমুদ্রের একেবারে পাড়ের কাছেই স্নান করছিল। তিনি কিছুটা দূরে এগিয়ে যাওয়ার পর ফিরে এসে আর ছেলেকে দেখতে পাননি। পরে খোঁজ শুরু হলে সোমনাথকে উদ্ধার করা হয়।
এরপর সোমবার রাতে উদ্ধারকারী দল বৃষ্টি শীলের দেহ উদ্ধার করে। তবে এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি সুমন শীলের। উত্তাল সমুদ্রের মধ্যেই তাঁর খোঁজে তল্লাশি চলছে। দুর্ঘটনার পর থেকেই মন্দারমণি উপকূলে নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছে। পর্যটকদের সমুদ্রের ধারে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে এবং পুলিশ-প্রশাসনের তরফে নিয়মিত মাইকিং চালানো হচ্ছে। গভীর নিম্নচাপের কারণে সমুদ্র উত্তাল থাকায় কোনও ঝুঁকি না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা জানিয়েছেন, ওই আটজন নদিয়ার বাসিন্দা। তাঁদের কয়েকজন দিঘা মোহনা এলাকায় কাজ করেন এবং বেড়াতে মন্দারমণিতে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, পর্যটকদের সতর্ক করতে নিয়মিত মাইকিং করা হয় এবং নজরদারির জন্য নুলিয়ার সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।






