রাজ্যের খবর

টানা জেরার পর গ্রেফতার কয়লা ও বালি মাফিয়া চিন্ময় মণ্ডল, ইডির নজরে বিপুল সম্পত্তি

লালা সিবিআইয়ের জালে ধরা পড়ার পর চিন্ময় বালি পাচারের ব্যবসায় নিজের আধিপত্য বিস্তার করেন।

Truth Of Bengal: দীর্ঘ টানাপড়েন ও ম্যারাথন জেরার পর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর হাতে গ্রেফতার হলেন দুর্গাপুরের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী চিন্ময় মণ্ডল। সোমবার রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে হেফাজতে নেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। অভিযোগ, অনুপ মাঝি ওরফে লালা এবং রাজু ঝায়ের আমল থেকেই রানিগঞ্জ ও আসানসোল শিল্পাঞ্চলে বেআইনি কয়লা ও বালি পাচারের কারবার একচ্ছত্রভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন এই চিন্ময়।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কয়লার কালো কারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন চিন্ময়। লালা এবং রাজু ঝায়ের প্যাড ব্যবহার করে বেআইনি কয়লা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পাচার করা হতো। অভিযোগ, ইসিএল-এর (ECL) ডিও কেটে বৈধ ব্যবসার আড়ালে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কয়লা পাচার করতেন তিনি। লালা সিবিআইয়ের জালে ধরা পড়ার পর চিন্ময় বালি পাচারের ব্যবসায় নিজের আধিপত্য বিস্তার করেন।

তদন্তে উঠে এসেছে, কয়লা মাফিয়া জয়দেব খাঁ-র ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এই চিন্ময় মণ্ডল। শুধু পাচার নয়, কালো টাকা সাদা করার জন্য তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন বিভিন্ন ব্যবসায়। দুর্গাপুরের বিধাননগরে নামী ইংরেজি মাধ্যম স্কুল, সোনার দোকান এবং মেডিকেল সংস্থায় তাঁর ও তাঁর অংশীদার ‘সুন্দর’-এর বড় অঙ্কের লগ্নি রয়েছে বলে জানতে পেরেছে ইডি।

মাসখানেক আগে চিন্ময়ের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু ডিজিটাল নথি এবং ডায়েরি উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। সেখানে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ‘প্রোটেকশন মানি’ দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে বলে দাবি ইডির। কাদের আশ্রয়ে থেকে দীর্ঘ ২২-২৩ বছর ধরে এই সাম্রাজ্য চলত, এখন তা খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা। মঙ্গলবার ধৃতকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

Related Articles