জলপাইগুড়ির ডিবিসি রোডে মাঝরাতে তাণ্ডব! সিপিএম কার্যালয় ভাঙচুর, পেট্রল বোমা ছুড়ে অগ্নিসংযোগ
এই ঘটনায় দুই পক্ষেরই বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতা ও কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন
সুব্রত রায়, জলপাইগুড়ি: ছাত্র রাজনীতিকে কেন্দ্র করে চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি শহর। সিপিএমের জেলা পার্টি কার্যালয়ে পেট্রল বোমা ছুড়ে আগুন লাগানোর এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠল আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)-এর বিরুদ্ধে। সোমবার গভীর রাতে এই নজিরবিহীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় জলপাইগুড়ি শহরের প্রাণকেন্দ্র ডিবিসি রোড। এই ঘটনায় দুই পক্ষেরই বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতা ও কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত জলপাইগুড়ি আইন মহাবিদ্যালয় (Law College) এবং আনন্দ চন্দ্র কলেজে এসএফআই (SFI) ও এবিভিপির সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী বিবাদকে কেন্দ্র করে। বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর অভিযোগ, সকালে এবিভিপির কয়েকজন ছাত্রনেতা তাদের উপর চড়াও হয়ে মারধর করে। অন্যদিকে, এবিভিপির পাল্টা দাবি, তাদের কর্মী-সমর্থকদের উপর প্রথমে আক্রমণ চালিয়েছিল এসএফআই-এর সদস্যরা। এই সংঘর্ষেরই জের গড়ায় রাতের বেলা শহরের ডিবিসি রোডে অবস্থিত সিপিএমের জেলা পার্টি অফিসে।
বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, গভীর রাতে আচমকাই এবিভিপির একদল কর্মী-সমর্থক বোতলে পেট্রল ভরে পেট্রোল বোমা হিসেবে পার্টি কার্যালয়ে নিক্ষেপ করে এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। ধারালো অস্ত্র ও ইট-পাথর নিয়ে কার্যালয়ে উপস্থিত সিপিএম কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়, ভাঙচুর করা হয় অফিসের জানলার কাচ ও আসবাবপত্র। পুড়িয়ে দেওয়া হয় একাধিক দলীয় পতাকা। রাত বারোটা পর্যন্ত টানা ঘণ্টানেক ধরে এলাকায় তাণ্ডব চলে। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বাম যুব নেতা দেবরাজ বর্মণ বলেন, “এবিভিপির সশস্ত্র গুন্ডারা পার্টি অফিসে এসে পেট্রল বোমা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে। এই ছোট ছোট ছেলেদের কোথায় ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে, তা আমাদের জানা আছে। হামলা চালিয়ে বামপন্থীদের থামানো যাবে না, আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করছি।”
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপির যুব মোর্চার জেলা সভাপতি পলেন ঘোষ দাবি করেন, “এসএফআইয়ের ক্যাডাররা প্রথমে এবিভিপির দু’জন কর্মীকে বেধড়ক মারধর করে। আমাদের প্রতিনিধিরা বিষয়টি জানতে এলে উল্টে তাঁদের ওপরই হামলা চালায় সিপিএম ও এসএফআই। নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখতে সিপিএম দাপট দেখানোর চেষ্টা করছে, তবে তারা আর কোনওদিন ক্ষমতায় ফিরবে না।” ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ।






