শুভমনদের এই মনোবলটা ভবিষ্যতেও ধরে রাখতে হবে: মদনলাল
তবুও দিল্লি টেস্টে ফলো অন করে ওদের দুই ব্যাটার হোপ ও ক্যাম্পবেল শতরান করল দেখে অবশ্যই ভাল লাগল।
মদনলাল, প্রাক্তন বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টেও ভারত যে জয় পাবে এটা চতুর্থ দিনেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। ভারত এই সিরিজে প্রতিপক্ষ ক্যারিবিয়ানদের টেক্কা দিয়ে জয় তুলে নিয়েছে। কেননা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল এখন অতীতের ছায়া। তবুও দিল্লি টেস্টে ফলো অন করে ওদের দুই ব্যাটার হোপ ও ক্যাম্পবেল শতরান করল দেখে অবশ্যই ভাল লাগল। আসলে কি লড়াইটা একেপেশে হলে ম্যাচ দেখে মজা পাওয়া যায় না। তবুও গৌতমের দল পর পর দুটো টেস্টে জয় পেয়েছে দেখে আমি দারুণ খুশি এবং আনন্দিত।
প্রথম টেস্টে রান ও ইনিংসে জয় পেয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। সেই ম্যাচটা দেখে অঘটন না ঘটলে দ্বিতীয় টেস্টের ভবিষ্যত কি হবে তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি কারোরই। আর সেটাই হয়েছে।
দ্বিতীয় টেস্টেও ভারতীয় ব্যাটার যেমন তাঁদের দায়িত্ব পালন করেছেন, ঠিক তেমনই বল হাতে নিজেদের মেলে ধরেছেন বোলাররাও। প্রথমে ব্যাটারদের কথায় আসি, যশস্বীকে যত দেখছি ততই যেন মুগ্ধ হচ্ছি। এই ছেলেটা এখনই কত পরিণত হয়ে নিজেকে মেলে ধরতে শুরু করেছে। অবশ্যই আগামী দিনে যশস্বী যদি নিজেকে ধরে রাখতে পারে, তাহলে তারকা হয়ে উঠবে এ কথা অস্বীকার করা যাবে না। কি নিখুঁত পারফরম্যান্স করল। সত্যিই ওর ব্যাটিং ট্যাকনিক্যালি অনেক স্ট্রং।
কেএল রাহুল এখন অনেক পরিণত এবং সিনিয়র ক্রিকেটারদের মধ্যে একজন। রাহুল জানেন কোন সময়ে নিজেকে মেলে ধরতে হয়। ও সেটাই করে। এই সিরিজেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আসলে রাহুল একজন পাক্কা টিমম্যান।
এরপর অধিনায়ক শুভমনের কথায় আসি, শুভমন এখন দলের নেতা। আগামী দিনে টিম ইন্ডিয়ার তারকা। ইংল্যান্ড সিরিজ থেকেই অধিনায়ক হিসেবে শুভমন দায়িত্ব পেয়ে ধীরে ধীরে বুঝিয়ে দিচ্ছেন, নির্বাচকরা তাঁকে দলের গুরু দায়িত্ব ভুল কিছু করেননি। ব্যাটার হিসেবেও গিল নিজেকে অনেক পরণিত হয়ে উঠছে। এদের পাশাপাশি ব্যাটার হিসেবে আমার ভাল লেগেছে সুদর্শনের খেলাও। এই ছেলেটারও ভবিষ্যতে তারকা হওয়ার সব গুণ রয়েছে।
এবার আসি বোলারদের কথায়, টিম ইন্ডিয়ার বর্তমান যে বোলিং সেটআপ অনেক শক্তিশালী। কেউ না কেউ ঠিক দলের হাল ধরতে সিদ্ধহস্ত। বুমরা ব্যর্থ হলে সিরাজ, না হলে কুলদীপ, জাড্ডু তো আছেনই, অগত্যা না হলে সুন্দর। কার কথা আলাদাভাবে বলব। এই যে টোটাল টিম কম্বিনেশন এক কথায় দুরন্ত। সবশেষ এটাই বলব, ক্যারিবিয়ানদের হারিয়ে যাতে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস না ভর করে শুভমনদের মধ্যে। কেননা টিম ইন্ডিয়ার টার্গেট বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে খেলে ট্রফি জয়ের স্বাদ পাওয়া। সেই লক্ষ্য কোনওভাবে ব্যর্থ না হয়।






