খেলা

১০ জনের মুম্বইকেও হারাতে ব্যর্থ সবুজ-মেরুন

Green-Maroon failed to defeat even 10-man Mumbai

Truth Of Bengal: রবিবারও মুম্বই এরিনাতে উঠল সবুজ-মেরুন সাইক্লোন। ওঠাটাই স্বাভাবিক। ছন্দে থাকা এই মোহনবাগানকে আটকায় সাধ্য কার! কেননা চলতি আইএসএল-এ মোলিনার দল যেন এখন অশ্বমেধের ঘোড়া এই কথাটা মেনে নিতে কারোর দ্বিধা করার কথা নয়।

সব ম্যাচে জয়টা যেন অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন মোহনবাগান ফুটবলাররা। তাই তো পয়েন্ট টেবিলের দিকে তাকালেই সবার ওপরে চোখে পড়ে সবুজ-মেরুনকে। কিন্তু ১০ জনের মুম্বই যে নিজেদের মাঠে এইরকম ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে তা বুঝি বুঝতে পারেননি বাগানের কোচ। এ যেন চলতি আইএসএল-র উদ্বোধনী ম্যাচের প্রতিচ্ছ্ববি। সেদিনও যুবভারতীতে ম্যাচ শেষ হয়েছিল ২-২ গোলে। রবিবারও সেই ঘটনাই ঘটল।

এদিনও এগিয়ে থেকেও জয় পেল না মোহনবাগান। ঠিক যেমনটা ঘটেছিল ১৩ সেপ্টেম্বর যুবভারতীতে। ঘরের মাঠে ওড়িশা এফসির বিরুদ্ধে ঠিক যেখানে শেষ করেছিলেন, রবিবার বিকালে আরব সাগরের পাড়ে ছাংতে-তিরিদের বিপক্ষে ঠিক সেখান থেকেই যেন শুরু করলেন শুভাশিষ-টম-আপুইয়া-লিস্টনরা।

এই ম্যাচে কার্ড সমস্যার কারণে কামিন্স ছিলেন না। প্রথম একাদশে ছিলেন না আলবার্তো রডরিগেজ ও আশিষ রাই। তাই ডিপ ডিফেন্সে টমের সঙ্গে দীপেন্দু ও আশিষের জায়গায় সৌরভ ভানওয়ালাকে শুরু থেকেই নামান মোলিনা। মাঝমাঠে আপুইয়াকে বেঞ্চে রেখে মনবীর, লিস্টন, দীপক টাংড়িদের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছিলেন নবাগত অভিষেক সূর্যবংশীকে। ফরোয়ার্ডে দিমিত্রি পেত্রাতসের সঙ্গে ছিলেন ম্যাকলারেন। অর্থ্যাৎ ৪-৪-২ ছকে দল নামান মোলিনা। অপর দিকে কার্টলে তাঁর দলকে সাজান ৪-৩-৩ ছকে। ফরোয়ার্ডে তাঁর মাস্টার স্টোক ছিল ছাংতে, বিপিন এবং বিক্রম প্রতাপ। কার্টলে এই ম্যাচে পাননি তাঁর ডিফেন্সের অন্যতম তারকা মেহতাব সিংকে।

ম্যাচের শুরু থেকেই মোহনবাগান রক্ষণকে ব্যতিবস্ত করে তুলতে আক্রমণে ঝাঁঝ বাড়ায় মুম্বই। কিন্তু অনড় মোহনবাগান ডিফেন্স। তবে মুম্বই ঝড় বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। এরপরই খেলায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে মুম্বইকে নাস্তানাবুদ করতে শুরু করেন বাগান ফুটবলাররা। ২১ মিনিটে গোলের সুযোগ প্রায় তৈরি করে ফেলেছিলেন ছাংতে। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি।

এরপরই মোহনবাগান প্রথম গোলের দেখা পায়। বাগানকে এগিয়ে দেন এই সবুজ-মেরুন সমর্থকদের আদরের প্রিয় ম্যাকলারেন। খেলার বয়স তখন ৩২ মিনিট। মোলিনার দল দ্বিতীয় গোল তুলে নেয় এই অর্ধের ৪১ মিনিটে। লিস্টনের মাইনাস থেক পা ছুঁইয়ে বাগান এগিয়ে দেন দিমিত্রি।

প্রথমার্ধে ২ গোলে এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোল শোধের জন্য মোহনবাগানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে মুম্বই। পিছিয়ে ছিল না মোহনবাগানও। কিন্তু ৫৭ মিনিটে মুম্বইয়ের কর্নার থেকে টম হেড করে বল ক্লিয়ার করতে তা থেকে বল পেয়ে মুম্বইয়ের হয়ে ব্যবধান কমান টরাল।

এর পরে এক মিনিট যেতে না যেতেই শুভাশিসকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছাড়লেন বিক্রম প্রতাপ। কিন্তু ১০ জনের মুম্বই যেন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে গোল শোধের মরিয়া চেষ্টা চালাতে থাকে কার্টলের দল। কিন্তু অপ্রতিরোধ্য বাগান গোলরক্ষক বিশাল কায়েথ।

জলপানের বিরতির ঠিক আগে আরও দু-একবার বাগান বক্সে হানা দিয়েছিলেন মুম্বই ফুটবলাররা। কিন্তু সেই সুযোগও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলেন তাঁরা। এরপরই জোড় পরিবর্তন করেন মুম্বই করেন কোচ। মাঠে নামান জয়েস রানেকে। এরপর আরও দুটি পরিবর্তন করেন কার্টলে। আর তাতেই আরও আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ে মুম্বই দলটির। একটি সময় সবাই যখন ভেবে নিয়েছিলেন ম্যাচে বাগানের জয় প্রায় নিশ্চিত, ঠিক তখনই কার্টলের দলকে সমতায় ফেরান নিকোলাস রডরিগেজ। ম্যাচ ড্র করে সুপার সিক্সে যাওয়ার আশা টিকিয়ে রাখল মুম্বই। বাগান পয়েন্ট টেবিলের এক নম্বরে থাকলেও মুম্বই উঠে এল পাঁচ নম্বরে।

Related Articles