মেসি-কাণ্ডে এবার বড় অ্যাকশন! প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে রুজু হল এফআইআর
আইনি পদক্ষেপে সহযোগিতা ও ন্যায়বিচারের জন্য শতদ্রু তাঁর পোস্টে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
Truth of Bengal: কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবল রাজপুত্র লিওনেল মেসির সফরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ও হট্টগোলের ঘটনায় এবার বড়সড় আইনি পদক্ষেপ করল পুলিশ। উক্ত অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তের করা অভিযোগের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) রুজু করেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। খোদ প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলার কপি হাতে পেয়েই সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে স্বস্তি প্রকাশ করেন শতদ্রু দত্ত। সেখানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, “সত্যের জয় হয়েছে। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।” একই সঙ্গে এই আইনি পদক্ষেপে সহযোগিতা ও ন্যায়বিচারের জন্য শতদ্রু তাঁর পোস্টে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
তদন্তকারী পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার মোট পাঁচটি অত্যন্ত গুরুতর ধারায় এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে অভিন্ন উদ্দেশ্য [৩(৫)], তোলাবাজি [৩০৮(২)], প্রতারণা [৩১৮(৪)], অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন [৩৫১(২)] এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র [৬১(২)]। শতদ্রু দত্তের মূল অভিযোগ ছিল, গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে মেসির মেগা ইভেন্টের আগে অরূপ বিশ্বাস তাঁর ওপর মন্ত্রী পদের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক বিপুল পরিমাণ টিকিট দাবি করেছিলেন। এমনকি তাঁর সেই অন্যায্য আবদার ও নির্দেশ অমান্য করলে গোটা অনুষ্ঠানটিই মাঝপথে বাতিল বা বন্ধ করে দেওয়ার সরাসরি হুমকিও দিয়েছিলেন তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী। শুধু তাই নয়, মন্ত্রীর আপত্তিকর চাপের মুখে পড়ে শতদ্রুকে প্রায় ২২ হাজার ‘কমপ্লিমেন্টারি’ বা সৌজন্যমূলক টিকিট দিতে হয়েছিল, যা পরবর্তীতে সাধারণ দর্শকদের বঞ্চিত করে চড়া দামে কালোবাজারি করা হয় বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
মেসির ওই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানটিকে ঘিরে যুবভারতীতে যে বিশৃঙ্খল ভিড় তৈরি হয়েছিল, সেখানে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের চেয়ে শাসকদলের নেতা, মন্ত্রী, ছবিশিকারি এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালীদের দাপটই ছিল সবচেয়ে বেশি। অভিযোগ, মাঠে প্রটোকল ভেঙে খোদ লিওনেল মেসির গায়ে কার্যত লেপ্টে ছিলেন অরূপ বিশ্বাস। এর আগে গত ১৯ মে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অরূপ বিশ্বাস, তাঁর স্ত্রী জুঁই বিশ্বাস, আইএএস (IAS) আধিকারিক শান্তনু বসু এবং রাজ্য পুলিশের তৎকালীন ডিজি রাজীব কুমার সহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে লিখিত বয়ান জমা দিয়েছিলেন আয়োজক শতদ্রু দত্ত। তাঁর দাবি, ক্রীড়ামন্ত্রক ও পুলিশের শীর্ষস্তরের চরম গাফিলতি এবং ভুলের কারণেই আন্তর্জাতিক স্তরের এই অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ ‘পণ্ড’ হয়ে যায়। বহু মানুষ কোনও বৈধ পাস বা অনুমতি ছাড়াই গায়ের জোরে মাঠে ঢুকে পড়েছিলেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে বাংলার ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করেছে।
গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীর ওই কলঙ্কময় ঘটনার পর দেশজুড়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে ‘অব্যাহতি’ নিতে বাধ্য হয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস। ভিআইপি ও প্রভাবশালীদের অতি-সক্রিয়তায় মাঠে এমন ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়েছিল যে, মেসির সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ়ের পেটে একজনের কনুইয়ের জোরদার গুঁতো লাগে এবং অন্য এক প্রভাবশালী ব্যক্তির নখের ঘায়ে ছড়ে যায় তারকা ফুটবলার রদ্রিগো ডি’পলের হাত। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে মেসির নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষীরা তড়িঘড়ি ফুটবলারদের মাঠ থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান। এর পরেই ক্ষুব্ধ সাধারণ দর্শকেরা মাঠে নেমে গ্যালারিতে তুমুল তাণ্ডব ও ভাঙচুর শুরু করেন। এই ঘটনা নিয়ে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়, যার প্রথমটিতে শতদ্রু দত্ত নিজেই গ্রেফতার হয়েছিলেন। পরবর্তীতে আদালতে শতদ্রুর জামিনের বিরোধিতা করে পুলিশ জানায়, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ১৯ কোটি টাকা খরচ করে টিকিট কেটেও মাঠে চরম হেনস্থার শিকার হয়েছেন। এবার সেই ঘটনার মূল চক্রী হিসেবে প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে পুলিশের এই এফআইআর রুজু ছাব্বিশের বাংলার রাজনীতি ও ক্রীড়ামহলে এক নতুন তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।






