নতুন মরসুমে রবসন ও মিগুয়েল ছন্দে থাকলে লাভবান হবে দুই প্রধানই : রাকিব হুসেন
বসুন্ধরায় থাকাকালীন এই দুইজনকেই খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় দলের অন্যতম সেরা উইঙ্গার রাকিব হুসেন।
সুদীপ্ত ভট্টাচার্য: চলতি মরসুমে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানে যোগ দিয়েছেন ওপার বাংলার অন্যতম বিখ্যাত ক্লাব বসুন্ধরা কিংসের প্রাক্তন দুই ব্রাজিয়িলান ফুটবলার। এরা হলেন মিগুয়েল ফিগুইরা ও রবসন রবিনহো। মিগুয়েল লাল-হলুদে এবং রবসন রবিনহো সবুজ-মেরুনে। এই দুই ব্রাজিলিয়ান বসন্ধুরা কিংসের হয়ে খেলেছেন শুধু নয়, সেরা পারফরম্যান্সও উপহার দিয়েছেন। ইতিমধ্যে মিগুয়েল ডুরান্ড কাপে কিছুটা তাঁর জাত চেনালেও রবসন এখনও সেই সুযোগ পাননি। বসুন্ধরায় থাকাকালীন এই দুইজনকেই খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় দলের অন্যতম সেরা উইঙ্গার রাকিব হুসেন। চলতি মরসুমে একদা তাঁর দুই প্রাক্তন সতীর্থকে দলে নিয়ে কতটা লাভবান হবে কলকাতার দুই প্রধান সে কথাই জানালেন রাকিব।
কথার শুরুতেই রাকিবের গলায় ঝড়ে পড়ল পুরোনো দুই বন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসা। তারপর ওপার বাংলার এই খ্যাতনামা উইঙ্গার বলেন, ‘রসবন অত্যন্ত বড় প্লেয়ার কোনও সন্দেহ নেই। ওর সবচেয়ে বড় গুণ হল ও যেমন গোল করতে পারে, তেমনিই অ্যাসিস্টের ক্ষেত্রে দারুণ সফল। মোহনবাগান ওকে পেয়ে আমার মনে হয় অনেক লাভবানই হবে। মোলিনা অত্যন্ত বুদ্ধিমান কোচ। উনি জানেন রবসনকে ঠিক কোথায়, কখন ব্যবহার করতে হবে। যেটা জানতেন আমাদের পুরনো কোচ অস্কার ব্রুজোও। তবে বসুন্ধরাতে থাকাকালীন অস্কার যেমন রবসনকে ফ্রি প্লেয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন, সেটা যদি করতে মোলিনা করতে পারেন, তাহলে তাঁর দলকে আটকানো মুশকিল। আশাকরি রবসনকে বিগত বছরগুলোর মতই ছন্দে পাওয়া যাবে। যদি তাই হয় তাহলে কামিন্স, দিমিত্রি ও ম্যাকলারেনদের সঙ্গে ওর বোঝাপড়াতে ভর করেই সাফল্যের বীজ বুনতে পারে বাগান। এখন বাকিটা সময় বলবে। সবুজ-মেরুন জার্সি গায়ে রবসন এএফসি-তে খানিকক্ষণের জন্য মাঠে নেমেছিলেন। তখন ওকে দেখে মনে হয়েছিল রবসন পুরোপুরি ফিট নন। তারপর অনেকটা দিন কেটে গিয়েছে, আশাকরি এখন রবসন অনেকটা ফিট হয়ে দলের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। ছন্দে থাকলে ও কিন্তু ভয়ঙ্কর। তবে কে কোথায় গিয়ে সেট হবে এটা অনেকটাই নির্ভর করে ভাগ্যের ওপর-ও। যদি ভাগ্য সঙ্গ দেয় তাহলে আমার আশা আগামী যে টুর্নামেন্টগুলো আছে, সেখানেই রবসন হয়ত সবুজ-মেরুন জার্সি গায়ে নিজের জাত চিনিয়ে দেবেন।’
রবসনের পাশাপাশি মিগুয়েলকেও খুব কাছ থেকে দেখেছেন রাকিব। পুরনো আর এক সতীর্থের সম্বন্ধে বলতে গিয়ে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা উইঙ্গারটি বলেন, ‘মিগুয়েল-অস্কার কম্বিনেশন সেট হয়ে গেলে ইস্টবেঙ্গলও যে বিগত বছরগুলির থেকে চলতি বছর অনেক ভাল খেলবে। এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। মিগুয়েল অত্যন্ত বুদ্ধিমান প্লেয়ার। বিশেষ করে ওর বাঁ পা দুর্দান্ত। ডেড বল সিচুয়েশনেও বেশ দক্ষ ব্রাজিলিয়ান মিডিও। মিডফিল্ডার হিসেবে মিগুয়েল একটু আক্রমণাত্মক পজিশনেই মূলত খেলতে ভালবাসেন। পাশাপাশি ওর পাসিং সেন্সের আলাদাভাবে প্রশংসা করতেই হবে। খেলার মাঝে মাঝে এমন মারাত্মক ডিফেন্স চেরা থ্রু বল বেড়িয়ে আসে ওর পা থেকে যা এককথায় অসাধারণ। বসুন্ধরাতে এইরকম বহু বল মিগুয়েল আমাদের উদ্দেশে বাড়িয়েছিলেন। মূলত মাঝমাঠের খেলোয়াড় হলেও মিগুয়েল গোল করতেও সিদ্ধ হস্ত। ওর দূরপাল্লার শটগুলিও খুব মারাত্মক। বোঝাই যায় না কখন ওর পা থেকে এইরকম শটগুলি বেড়িয়ে আসে। বাংলেদেশ লিগে মিগুয়েল যখন বসুন্ধরার হয়ে খেলতে এলেন, তখন খুব কাছ থেকে ওকে দেখার সুযোগ হয়েছিল আমার। ইস্টবেঙ্গলের সুবিধা হচ্ছে কোচ অস্কার জানেন তাঁর পুরনো ছাত্র মিগুয়েল সম্বন্ধে। এইজন্যই তো তিনি এবার ওকে দলে নিয়ে এসেছেন। পাশাপাশি অস্কারের এটাও জানা আছে কিভাবে মিগুয়েলের কাছ থেকে সেরা খেলাটা বার করে আনতে হবে। আমার মনে হয় এই জুটিই এবারের ইস্টবেঙ্গল দলের তরুপের তাস হয়ে উঠতে পারে। এবং অবশ্যই বিগত বছরগুলির থেকে ইস্টবেঙ্গল চলতি বছরে অনেক ভাল পারফরম্যান্স করবে।’
রাকিবের মত একই মত পোষণ করলেন বাংলাদেশের এক সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক মাসুদ আলমও। যিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন এই দুই ফুটবলারকে। তাঁর মতে, দুই ক্লাবের জার্সিতে এঁরা নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে অবশ্যই ফল ভাল হবে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের।


