লাল-হলুদের গ্যালারিতে ফিরবেন রাহুল, স্মরণ ম্যাচে মাঠে নামছেন ইস্টবেঙ্গলের কিংবদন্তিরা
বিজয়গড়ের সেই ‘ঘরের ছেলে’ ছোটবেলা থেকেই লাল-হলুদ রঙে নিজেকে রাঙিয়ে নিয়েছিলেন।
Truth of Bengal: ইস্টবেঙ্গল শুধু একটি ক্লাব ছিল না, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনের আবেগও ছিল। বিজয়গড়ের সেই ‘ঘরের ছেলে’ ছোটবেলা থেকেই লাল-হলুদ রঙে নিজেকে রাঙিয়ে নিয়েছিলেন। ফুটবল নিয়ে তাঁর উন্মাদনা, ইস্টবেঙ্গলকে ঘিরে স্বপ্ন আর ক্লাবের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা তাঁকে সমর্থকদের ভিড়ে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল। কিন্তু গত মার্চে তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে আকস্মিক দুর্ঘটনায় থেমে যায় তাঁর জীবনযাত্রা। তবুও প্রিয় ক্লাবের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আজও অটুট।
প্রয়াত এই অভিনেতার স্মৃতিকে সম্মান জানাতেই এবার এক অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাহুল অভিনীত শেষ ছবি ‘ছবিওয়ালা’-র মুক্তিকে সামনে রেখে আগামী ১৫ জুন ইস্টবেঙ্গল মাঠে আয়োজন করা হয়েছে একটি বিশেষ স্মরণ ম্যাচ। এই প্রদর্শনী ম্যাচের নাম দেওয়া হয়েছে ‘লাল-হলুদ গ্যালারির ছবিওয়ালা’। ফুটবল আর সিনেমার আবেগকে একসূত্রে বেঁধে তৈরি হয়েছে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন।
বিকেল পাঁচটায় শুরু হতে চলা এই ম্যাচে উপস্থিত থাকবেন ক্রীড়া ও বিনোদন জগতের বহু পরিচিত মুখ। তবে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ একঝাঁক প্রাক্তন ইস্টবেঙ্গল তারকার অংশগ্রহণ। অ্যালভিটো ডি’কুনহা, মেহতাব হোসেন, দীপঙ্কর রায়, সৈয়দ রহিম নবি, অসীম বিশ্বাস, অর্ণব মণ্ডল, সৌমিক দে এবং মহম্মদ রফিক-সহ বহু প্রাক্তন ফুটবলার বুট পায়ে মাঠে নামবেন রাহুলকে শ্রদ্ধা জানাতে।
রাহুলের জীবনের শেষ পডকাস্টেও উঠে এসেছিল ইস্টবেঙ্গলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর আশা ও বিশ্লেষণ। ক্লাবের সাফল্য নিয়ে তিনি সবসময় আশাবাদী ছিলেন। জীবদ্দশায় ইস্টবেঙ্গলের সাম্প্রতিক সাফল্যের পুরোটা দেখতে না পারলেও তাঁর স্মৃতি আজও লাল-হলুদ সমর্থকদের হৃদয়ে সমান উজ্জ্বল।
এই আয়োজনকে বাস্তবায়িত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ক্লাবের শীর্ষ কর্তা নীতু সরকার। আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।
‘ছবিওয়ালা’-র পরিচালক বাপ্পার কথায়, রাহুল হয়তো শারীরিকভাবে আর উপস্থিত নেই, কিন্তু তাঁর শেষ ছবি এবং ইস্টবেঙ্গলকে ঘিরে থাকা আবেগের মধ্য দিয়েই তিনি বেঁচে থাকবেন। আগামী ১৫ জুন তাই শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং এক প্রিয় মানুষের স্মৃতি, ভালবাসা আর আবেগকে সম্মান জানানোর দিন হয়ে উঠতে চলেছে।



