শনিবার কালীঘাটে হাইভোল্টেজ বৈঠক তৃণমূলের, কাদের নিয়ে হচ্ছে এই বিশেষ বৈঠক ?
Trinamool high voltage meeting in Kalighat on Saturday, with whom is this special meeting taking place?

The Truth Of Bengal: মিশন-২৪- অনেকটাই সফল হয়েছে । এবার বিজেপিকে এক ইঞ্চিও জমি না ছাড়ার পণ করে দিল্লির দরবার সরগরম করতে রণকৌশল চূড়ান্ত করতে তত্পর বিজেপি বিরোধী শিবিরের অন্যতম দল তৃণমূল কংগ্রেস । ১০বছরের মোদি সরকারের ব্যর্থতা থেকে বিজেপির সংবিধান,যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে মান্যতা না দেওয়া বা জনস্বার্থবাহী ইস্যুতে আগামীর পথ চলার গতি ঠিক করতে কালীঘাটে হাইভোল্টেজ মিটিংয়ের প্রস্তুতিতে তৃণমূল শিবির।উনিশের থেকে ২৪এ বিজেপির আসন অনেকটাই কমেছে। অন্যদিকে, গতবারের থেকে আসন বাড়িয়ে তৃণমূল ২৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। ৬টি আসনে বাম-কংগ্রেসের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে আসন হারাতে হয়েছে। এই অবস্থায় ভোট-রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেস তার কৌশলগত অবস্থান নিতে চাইছে।
সপ্তাহের শেষদিন শনিবার কালীঘাটে বসবে তৃণমূল কংগ্রেসের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক।বৈঠকে দিশা দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়,থাকবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার নির্ধারিত পথেই জাতীয় রাজনীতির নবদিশা ঠিক করা হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান সাংসদরা, নতুন নির্বাচিত সাংসদদের সংসদীয় রাজনীতি সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে পাঠ দিতে পারেন। জানা গেছে,তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ী ২৯জন সাংসদ ছাড়াও পরাজিতরাও এই রণকৌশল বৈঠকে যোগ দেবেন।বৈঠকে আলোকপাত করা হবে,কিভাবে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।সংসদে কোন কোন ইস্যুতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। উল্লেখ্য,বাংলার ১লক্ষ ১৬হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রের কাছ থেকে আদায় করে আনতে তৃণমূলের ২৯ সাংসদই কণ্ঠ জোরদার করতে চান। দিল্লিতে সেই আন্দোলনের ঝাঁজ বাড়াতে দলের নতুন ২৯ সাংসদকে বার্তা দিতে চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে যে সব প্রার্থী হেরে গিয়েছেন, সেই এলাকায় দলের পরবর্তী রণকৌশল কী হবে, তা নিয়ে পরাজিত সাংসদদের মানুষের পাশে থাকার বিষয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গাইডলাইন দিতে চান ।
বলা যায়,এবার বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোয় তারা শরিক নির্ভর হয়ে উঠেছে।বিজেপির হাতে রয়েছে ২৪০জন সাংসদ। বিরোধীরা এবার যথেষ্ট শক্তিশালী হয়েছে।ঐক্যবদ্ধ বিরোধী শিবির যাতে সরকার পক্ষের থেকে জাতীয় স্বার্থে দাবি আদায় করে আনতে পারে,সেজন্য সচেষ্ট হতে চায় তৃণমূল কংগ্রেস।নড়বড়ে বিজেপি সরকার যাতে বিভাজনের নীতি কার্যকর করতে না পারে সেজন্য কৌশলী অবস্থান নিতে চান তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা।ইতিমধ্যে অখিলেশ যাদব,উদ্ধব ঠাকরে,সঞ্জয় সিং –রাঘব চাড্ডার সঙ্গে একপ্রস্থ বৈঠক সেরেছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । নীতিগত বিরোধিতা থেকে কৌশলী রাজনীতির প্যাঁচে গেরুয়া শিবিরকে আর ছেড়ে কথা বলতে নারাজ তৃণমূল শিবির।জনপ্রতিনিধিদের ভবিষ্যত কর্মপন্থা ঠিক করে দেওয়ার মতোই শনিবারের এই বৈঠকে ডাকা হয়েছে ভগবানগোলা ও বরানগরে জয়ী দুই বিধায়ক রেয়াত হোসেন ও সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও।রাজনৈতিক স্তরে ঘরোয়া আলোচনা,বৈঠক,পর্যালোচনার পাশাপাশি বিকল্প সরকারের সম্ভাবনাও জিইয়ে রাখতে চেষ্টা রেখেছে বিরোধী শিবির। এদিকে, ভোট মিটতেই পর্যালোচনা বৈঠক বসছে নবান্নে।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ১১ জুনের বৈঠকে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের ডাকা হয়েছে। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকে আলোচনা হবে।






