লাইফস্টাইলস্বাস্থ্য

তুলসিতেই জব্দ ক্যানসার

Cancer

The Truth of Bengal, Mou Basu: ম্যাজিক আছে তুলসিতে। সামান্য তুলসিপাতাতেই জব্দ হবে মারণ রোগ ক্যানসার। সাধারণত ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়াজনিত সংক্রমণ ঠেকাতে তুলসির জুড়ি মেলা ভার। তাই তো জ্বর, সর্দিকাশির সমস্যা ঠেকাতে খালি পেটে তুলসিপাতা খাওয়া হয়। হজমের সমস্যা হোক কিংবা ডায়রিয়া, সবকিছুতেই মুশকিল আসান হয়ে ওঠে তুলসি। স্নানের জলে সামান্য তুলসিপাতা ফেলে দেখুন। মিরাকল হবে। অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়া গুণে সমৃদ্ধ তুলসিপাতা র্যাশ, ব্রনর মতো ত্বকের হাজারো সমস্যা মেটাতে সক্ষম। শরীরে থাকা টক্সিন বের করতে সক্ষম তুলসি সমৃদ্ধ হার্বাল টি। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে এহেন অ্যান্টি বায়োটিক গুণে সমৃদ্ধ তুলসিপাতায় অ্যান্টি কার্সিনোজেনিক গুণ আছে বলে তা ক্যানসার রোধ করতেও সক্ষম।

গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ ভারতে এক রকমের বন তুলসি (Euphorbiaceae পরিবারভুক্ত) পাওয়া যায় যা আগাছাতে জন্মায় সাধারণত। এই বন তুলসি ক্যানসারসৃষ্টিকারী ক্ষতিকর কোষ ধ্বংস করতে পারে। চেন্নাইয়ের শ্রীরামচন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখেছেন ওই বিশেষ বন তুলসির পাতা থেকে মেলা acetone extract বা উপাদান শরীরের উপকারী কোষের কোনো রকম ক্ষতি না করেই ফুসফুসের ক্যানসারসৃষ্টিকারী ক্ষতিকারক কোষ ধ্বংস করতে পারে।

হাজার হাজার বছর ধরে তুলসিপাতা জ্বর, ত্বকের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, হজম, পেটের সমস্যা, জননেন্দ্রিয়র সমস্যা, ব্রঙ্কাইটিস ম্যালারিয়া, রিউম্যাটিক আর্থ্রাইটিসের ব্যথা সারাতে ব্যবহার হয়ে আসছে। যদিও তুলসিপাতা যে ক্যানসার প্রতিরোধ করতেও সক্ষম তা এতদিন অজানাই ছিল।

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, তুলসিপাতায় পাওয়া যায় eugenol ও methyl eugenol নামে বিশেষ রাসায়নিক উপাদান। এছাড়াও sesquiterpene আর carvacrol নামে এসেন্সিয়াল অয়েলও পাওয়া যায়। oreitin নামক এক বিশেষ রকমের ফ্ল্যাভোনয়েড মজুত থাকায় তুলসিপাতা ক্যানসার প্রতিরোধ করতে সক্ষম। eugenol টিউমার ও ত্বক, লিউকেমিয়ার মতো ক্যানসার ঠেকাতে সক্ষম। তুলসিপাতায় ursolic অ্যাসিড থাকে যা টিউমার হওয়া আটকায়।

কীভাবে তুলসিপাতা বিভিন্ন রকমের ক্যানসারকে জব্দ করে –

ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অনেক সময়ই শ্বাসকষ্টের সমস্যা, কাশির সমস্যা হয়। তুলসিপাতায় থাকা ethanolic উপাদান সর্দিকাশি ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা কমায়।

২ রকমের ত্বকের ক্যানসার দেখা যায়। ১) squamous cell carcinoma আর ২) basal cell carcinoma।  তুলসিপাতায় থাকা quercetin নামক পদার্থে কেমোথেরাপির ক্ষতিকারক প্রতিক্রিয়া প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে। এছাড়াও রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট গুণ। তাই তুলসিপাতা ক্যানসারসৃষ্টিকারী কোষ ও টিউমার ধ্বংস করতে পারে।

মহিলারা বিশেষ ভাবে কার্ভিকাল ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। তুলসিপাতায় থাকা carvacrol নামক পদার্থ কার্ভিকাল ক্যানসার প্রতিরোধ করতে সক্ষম। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট গুণ আছে বলে তুলসিপাতা কোষের কোনো রকম ক্ষতি হওয়া আটকায়। ব্রেস্ট ও মুখের ক্যানসারও আটকাতে সক্ষম তুলসিপাতা।

Related Articles