স্বাস্থ্য

ক্যানসার শনাক্ত হবে বেদনাহীন পদ্ধতিতে! ব্রাজিলের বিজ্ঞানীদের আবিষ্কারে বিশ্বজুড়ে শোরগোল

এই গবেষণার সবথেকে বড় সাফল্য হলো, অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং ব্যথাহীন উপায়ে ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায় শনাক্ত করার ক্ষমতা।

Truth Of Bengal: ব্রাজিলের একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ‘ফেডারেল ইউনিভার্সিটি অফ গোয়াস’ (UFG)-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণা চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। গবেষকদের দাবি, মানুষের কর্ণমল বা কানের মোম (Earwax) পরীক্ষা করেই এখন শরীরে ক্যানসারের উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব। এই উদ্ভাবনী পদ্ধতির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সেরুমেনোগ্রাম’ (Cerumenogram)। গবেষণার এই অনন্য কৃতিত্বের জন্য ২০২৫ সালের মর্যাদাপূর্ণ ‘ক্যাপেস অ্যাওয়ার্ড’-এ এটি বিশেষভাবে সম্মানিত হয়েছে।

এই গবেষণার সবথেকে বড় সাফল্য হলো, অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং ব্যথাহীন উপায়ে ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায় শনাক্ত করার ক্ষমতা। গবেষণার সমন্বয়কারী নেলসন আন্তোনিওসি ফিলহোর মতে, ক্যানসার প্রতিরোধে এবং রোগীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এই পদ্ধতিটি বৈপ্লবিক ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি জানান, এটি একটি সহজ ও ব্যবহারিক পদ্ধতি, যেখানে কোনো কাটাছেঁড়া বা যন্ত্রণার ভয় নেই। মূলত শরীরের সুস্থ অবস্থায় কানের খইলের রাসায়নিক গঠন একরকম থাকে, কিন্তু শরীরে কোনো রোগ বাসা বাঁধলে সেই গঠনে পরিবর্তন আসে। গবেষকরা একে স্বাস্থ্যের ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট’ বা আঙুলের ছাপ হিসেবে অভিহিত করছেন।

দীর্ঘ এক দশক ধরে চলা এই প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল কানের খইলের মাধ্যমে ডায়াবেটিস এবং শরীরে মাদক বা কীটনাশকের উপস্থিতি শনাক্ত করার মধ্য দিয়ে। পরবর্তীতে এই পদ্ধতি পশুচিকিৎসায় প্রয়োগ করে কুকুরের শরীরে ক্যানসার এবং বিষক্রিয়া শনাক্ত করতে সাফল্য পান গবেষকরা। গত দশ বছর ধরে সাও পাওলোর ‘অ্যামারাল কারভাহো হাসপাতাল’-এর মতো বিশেষায়িত ক্যানসার চিকিৎসা কেন্দ্রের সঙ্গে যৌথভাবে এই গবেষণা চালানো হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ওপর এই পরীক্ষার ফলাফল অত্যন্ত ইতিবাচক ও নির্ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

Related Articles