তারাতলা কাণ্ডে সিন্ডিকেট-যোগের গন্ধ! কাঠগড়ায় ববি-ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলর
লোহার পাতের ওপর ঢালাইয়ের মরণফাঁদ! তারাতলায় ৩ জনের মৃত্যুর পর এলাকা থেকে তাড়ানো হল তৃণমূল কাউন্সিলরকে
Truth of Bengal: দুর্বল ভিতের ওপর কোনও রকমে লোহার বিম খাড়া করে তৈরি করা হয়েছিল সুবিশাল কাঠামো। তার ওপর চলছিল ভারী কংক্রিটের ঢালাইয়ের কাজ। কিন্তু সেই মরণফাঁদ শেষরক্ষা করতে পারল না। বুধবার দুপুরে কলকাতার তারাতলার ব্রেসব্রিজের কাছে নির্মীয়মাণ ইমারত ভেঙে পড়ার ঘটনায় এক বিরাট বিপর্যয়ের সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা। ইতিমধ্যেই ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে সেনা ও এনডিআরএফ (NDRF)। তবে ভেতরে আরও বহু শ্রমিক চাপা পড়ে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই হাড়হিম করা ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সামনে আসছে মারাত্মক সব দুর্নীতির অভিযোগ। এই ট্র্যাজেডির নেপথ্যে কার হাত? এলাকায় কান পাতলে এখন একটাই নাম শোনা যাচ্ছে, ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর আনোয়ার খান, যিনি প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, ব্রেসব্রিজের কাছে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের ৬৬৮৯ বর্গমিটার জমিটি ৩০ বছরের জন্য লিজে নিয়েছিল ‘মেসার্স বেহেরা ব্রাদার্স’ নামের একটি সংস্থা। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এই লিজের মেয়াদ শুরু হয়। পরিকল্পনা ছিল, এখানে একটি আধুনিক গুদাম ও হিমঘর (Cold Storage) তৈরি করা হবে। কিন্তু অভিযোগ, লিজ নেওয়া সংস্থাটি নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ভিত তৈরি করে। তার ওপর লোহার বিম দাঁড় করিয়ে রাতারাতি তিনতলা বিল্ডিং খাড়া করার চেষ্টা চলছিল।
প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা আসগর নিখোঁজ, বিক্ষোভে উত্তাল ব্রেসব্রিজ
বুধবার দুপুরে যখন এই বিপর্যয় ঘটে, তখন দোতলা ও তিনতলায় একযোগে ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। এই ঢালাইয়ের কাজ দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন আসগর নামের এক ঠিকাদার, যিনি এলাকায় প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত। বহুতলটি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার পর থেকে এই আসগরও রহস্যময়ভাবে নিখোঁজ।
ইস্পাতের শেডের ওপর কংক্রিটের ওজন! তাড়া খেলেন কাউন্সিলর
উদ্ধারকাজে নেমে ধ্বংসস্তূপের চেহারা দেখে রীতিমতো চোখ চড়কগাছ হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীদের। দেখা গিয়েছে, পাতলা ইস্পাতের শেডের ওপর সরাসরি ভারী কংক্রিটের ঢালাই চাপানো হয়েছিল। সেই দানবীয় ওজন সহ্য করতে না পেরে লোহার মূল বিমগুলি মাঝখান থেকে বেঁকে যায় এবং পুরো ছাদ হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে। দ্রুত কাজ শেষ করে মুনাফা লোটার চক্করেই যে এই বিপর্যয়, তা এখন স্পষ্ট।
এদিকে, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করানোর পেছনে স্থানীয় কাউন্সিলর আনোয়ার খানের মদত ছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন বাসিন্দারা। এদিন দুপুরে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আনোয়ার খান ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় জনতা। তাঁকে লক্ষ্য করে শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, উত্তেজিত জনতা তাঁকে রীতিমতো ধাওয়া করে দুর্ঘটনাস্থল থেকে তাড়িয়ে দেয়। এই ঘটনায় বেহেরা ব্রাদার্স ও প্রোমোটার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের দাবি তুলেছে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।





