পুজোতেও জেলেই থাকতে হচ্ছে সুজিতকে! প্রাক্তন মন্ত্রীর জামিনের আবেদন খারিজ হাইকোর্টে
মে মাসে গ্রেফতারির পর ফের ধাক্কা! বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে খারিজ সুজিতের জামিনের আর্জি
Truth of Bengal: পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চরম আইনি বিপাকে পড়লেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী তথা হেভিওয়েট নেতা সুজিত বসু। দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনের পর মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ প্রাক্তন এই মন্ত্রীর জামিনের আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে আপাতত তাঁর জেলবন্দি দশা যে কাটছে না, তা আদালতের এই রায়ে স্পষ্ট হয়ে গেল। গত ১১ মে পুরনিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে দীর্ঘ সাড়ে দশ ঘণ্টা একটানা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। তারপর থেকেই বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন তিনি।
এর আগে গত ১২ আগস্ট কলকাতা হাইকোর্টে শুনানির সময় ইডি চাঞ্চল্যকর সব তথ্য ও বিস্ফোরক দাবি পেশ করেছিল। কেন্দ্রীয় সংস্থার পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়েছিল, শুধুমাত্র পুরনিয়োগের মাধ্যমেই প্রায় ২৮৪ জন অযোগ্য প্রার্থীর বেআইনিভাবে চাকরি হয়েছে। আর এই প্রতিটি চাকরির বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে মাথাপিছু নগদ ৬ লক্ষ টাকা করে উৎকোচ নেওয়া হয়েছিল। এখানেই শেষ নয়, তদন্তে নেমে ইডি আধিকারিকরা দেখতে পান যে ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮.৮ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। শুধু তাই নয়, সুজিত বসুর পাশাপাশি তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও কোটি কোটি টাকার এই অবৈধ লেনদেনের হদিশ মিলেছে বলে জোরালো দাবি করে তদন্তকারী দল।
পুরনিয়োগ দুর্নীতির এই মামলায় সুজিত বসুকে গ্রেফতারের অনেক আগেই মিডলম্যান বা বেআইনি চক্রের মূল পান্ডা অয়ন শীলকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। অয়নকে লাগাতার জেরা করেই দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১৫২ জনের চাকরির জন্য সুজিত বসুর সরাসরি সুপারিশ করার চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পায় কেন্দ্রীয় সংস্থা। সেই সমস্ত অকাট্য তথ্যপ্রমাণ এবং আর্থিক দুর্নীতির শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই মঙ্গলবার সুজিত বসুর জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে ইডি। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ প্রাক্তন মন্ত্রীর জামিনের আর্জি নাকচ করে দেন। আদালতের এই কড়া রায়ের ফলে দুর্নীতি বিরোধী তদন্তে চাপ আরও বহুগুণ বেড়ে গেল।






