‘পদত্যাগ করে রাজসাক্ষী হন!’ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে খোলা চ্যালেঞ্জ রাহুল গান্ধীর
সরাসরি পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে রাজসাক্ষী হয়ে নির্বাচনী অনিয়মের তদন্তে সহযোগিতা করার আহ্বান জানালেন কংগ্রেস নেতা
Truth of Bengal: ভোটচুরির অভিযোগ ঘিরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আক্রমণের সুর আরও চড়ালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সরাসরি পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে রাজসাক্ষী হয়ে নির্বাচনী অনিয়মের তদন্তে সহযোগিতা করার আহ্বান জানালেন কংগ্রেস নেতা। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের অন্তত ২০০ জন আধিকারিক নিয়মিত বিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁদের কাছ থেকেই সরকারের অন্দরমহলের নানা তথ্য পৌঁছচ্ছে কংগ্রেসের হাতে। সোমবার দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দপ্তরে সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে তীব্র আক্রমণ করেন রাহুল। তাঁর দাবি, জ্ঞানেশ কুমার প্রবল মানসিক চাপে রয়েছেন। এমনকি রাতে ঠিকমতো ঘুমোতেও পারছেন না। রাহুলের কথায়, জ্ঞানেশ কুমার নিজেও তাঁর সাংবাদিক বৈঠকের উপর নজর রাখছেন এবং বিভিন্ন মহল থেকে তাঁর কাছে বার্তা পৌঁছচ্ছে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশে রাহুল বলেন, “আপনি অপরাধ করেছেন, কিন্তু আপনি এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী নন। আমরা জানি, আপনি কতটা চাপের মধ্যে রয়েছেন। পদত্যাগ করুন, রাজসাক্ষী হয়ে যান। তদন্তে সহযোগিতা করুন। সেটাই হবে দেশের প্রতি আপনার প্রকৃত দায়িত্ব পালন।” যদিও রাহুলের এই অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে, তা ওই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট নয়। শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের অন্দরমহল নিয়েও এদিন চাঞ্চল্যকর দাবি করেন রাহুল। সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সরকারের অন্তত ২০০ জন আধিকারিক বিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ইডি, সিবিআই থেকে শুরু করে বিদেশমন্ত্রক—বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও দপ্তর থেকে নিয়মিত তথ্য পাচ্ছেন তাঁরা। রাহুলের বক্তব্য, কেন্দ্র যতই চেষ্টা করুক, সত্য গোপন রাখা সম্ভব হবে না। তবে ওই আধিকারিকদের পরিচয় কিংবা তাঁদের দেওয়া তথ্যের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তিনি।
প্রসঙ্গত, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ভোটচুরির অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নেমেছে বিরোধী শিবির। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছিল। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বিরোধী নেতাদের জমায়েতে উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক নেতা। যদিও কলকাতায় ফেরার বিমান ধরার কারণে পরবর্তী মিছিলে যোগ দেননি মমতা। উৎসবের মরশুমে আপাতত বিরোধী দলগুলি পৃথকভাবে নিজেদের প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মূল লক্ষ্য যে একই থাকছে, তা স্পষ্ট করেছেন রাহুল। অন্যদিকে, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইও শুরু করেছে বিরোধী শিবির। রাহুল-সহ আট বিরোধী নেতা সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গিয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় আচমকাই শীর্ষ আদালতে পৌঁছে যান তাঁরা।






