কলকাতা

পুজোয় নতুন সাজে সিভিক ভলান্টিয়াররা! ভিড় সামলাতে তৈরি লালবাজারের ‘কমলা বাহিনী’

মোট ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের জন্য পোশাক ও টুপি তৈরি করতে প্রায় ৮৯ লক্ষ টাকা খরচ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর

Truth of Bengal: এবার দুর্গাপুজোয় কলকাতা পুলিশের স্বেচ্ছাসেবকদের দেখা যাবে নতুন রূপে। উৎসবের দিনগুলিতে শহরের ভিড় ও ট্রাফিক সামলানোর দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য কমলা রঙের বিশেষ পোশাক তৈরি করছে লালবাজার। মোট ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের জন্য পোশাক ও টুপি তৈরি করতে প্রায় ৮৯ লক্ষ টাকা খরচ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। লালবাজারের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, পুজোর সময় দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় থেকে দায়িত্ব সামলাতে হয় স্বেচ্ছাসেবকদের। তাই তাঁদের পোশাক যাতে আরামদায়ক হয়, সে বিষয়টি মাথায় রেখেই নতুন ইউনিফর্মের নকশা তৈরি করা হয়েছে। এতদিন সাধারণত হাফ হাতা টি-শার্ট পরেই তাঁদের ডিউটি করতে দেখা যেত। এবার সেই পোশাকে আসছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য দু’ধরনের কমলা রঙের ফুলহাতা, কলারযুক্ত জামা তৈরি করা হবে। এর মধ্যে ১২ হাজার পোশাক হবে গাঢ় কমলা রঙের এবং বাকি ৮ হাজার হালকা কমলা রঙের। জামার সামনের দিকে সাদা রঙে থাকবে কলকাতা পুলিশের লোগো। সামনে ছোট অক্ষরে এবং পিছনে বড় অক্ষরে লেখা থাকবে ‘কলকাতা পুলিশ ভলান্টিয়ার’। পোশাকের সঙ্গে প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবকের জন্য দেওয়া হবে কমলা রঙের টুপিও। ২০ হাজার পোশাক তৈরির জন্য প্রায় ৭৩ লক্ষ টাকা এবং টুপির জন্য আরও ১৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে খরচ ধরা হয়েছে ৮৯ লক্ষ টাকা। পুজোর আগেই সমস্ত পোশাক ও টুপি প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলির হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতি বছর দুর্গাপুজোর সময় কলকাতা পুলিশের কর্মী ও আধিকারিকদের পাশাপাশি হোমগার্ড, সিভিক ভলান্টিয়ার এবং বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবককে দায়িত্বে নামানো হয়। স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, এনসিসি সদস্য এবং বিভিন্ন এলাকার ক্লাবের সদস্যদেরও স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে নিয়োগ করা হয়। মহালয়ার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট পুলিশ ডিভিশনের তরফে তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। চতুর্থী থেকে শুরু হওয়া পুজোর ডিউটি চলে দশমী পর্যন্ত। এর পরেও থাকে বিসর্জন পর্বের দায়িত্ব। ভাঙড়-সহ গোটা কলকাতায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ট্রাফিক সচল রাখতে স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে লালবাজার।

পুলিশ জানিয়েছে, নতুন পোশাক পরে স্বেচ্ছাসেবকদের একাংশ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবেন। পাশাপাশি কলকাতার বড় এবং জনবহুল পুজোমণ্ডপগুলিতেও তাঁদের মোতায়েন করা হবে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং কোনও মণ্ডপের ভিতরে অতিরিক্ত জমায়েত যাতে না হয়, সে দিকেও নজর রাখবেন তাঁরা। পুজোর প্রায় এক মাস আগেই তাই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। নতুন কমলা ইউনিফর্মে এবার শহরের পুজোর ভিড়ে আলাদাভাবেই নজর কাড়তে চলেছেন কলকাতা পুলিশের স্বেচ্ছাসেবকরা।

Related Articles