কলকাতা

কীর্তি আজাদের বিরুদ্ধে এখনই কড়া পদক্ষেপ নয়, বড় নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

আগাম জামিনের সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার তাঁকে আপাতত রক্ষাকবচ দিল আদালত

Truth of Bengal: তোলাবাজি ও হুমকির অভিযোগে গ্রেফতারির আশঙ্কায় কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বর্ধমান-দুর্গাপুরের তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ। আগাম জামিনের সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার তাঁকে আপাতত রক্ষাকবচ দিল আদালত। বিচারপতি কৌশিক চন্দের নির্দেশ, এই মুহূর্তে কীর্তির বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। তবে তদন্তে তাঁকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। এই মামলার তদন্ত ইতিমধ্যেই হাতে নিয়েছে রাজ্য পুলিশের সিআইডি। কীর্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলবও করা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর তাঁকে সিআইডি দফতরে হাজিরা দিতে হবে। পরবর্তী সময়ে ফের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে অন্তত সাত দিন আগে নোটিস দিয়ে তাঁকে ডাকা যাবে।

মামলার সূত্রপাত এক ব্যবসায়ীর অভিযোগ ঘিরে। অভিযোগকারীর দাবি, গত বছরের ২১ মে তাঁকে ফোন করে দুর্গাপুরে কীর্তির বাংলোয় ডাকা হয়েছিল। সেখানে পৌঁছনোর পর কীর্তির এক সহযোগী তাঁর কাছ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ। টাকা না দিলে তাঁর রান্নার গ্যাসের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি ওই ব্যবসায়ীর। গোটা কথোপকথনের অডিয়ো রেকর্ড তাঁর কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই কীর্তি এবং তাঁর কয়েক জন সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। যদিও শুরু থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার তথা তৃণমূল সাংসদ। কীর্তির দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। ঘটনার দিন তিনি দুর্গাপুরেই ছিলেন না বলেও আদালতে জানিয়েছেন তিনি। সেই বক্তব্যের সমর্থনে নিজের বিমানযাত্রার নথিও আদালতে জমা দিয়েছেন সাংসদ।

আগাম জামিনের আবেদনে কীর্তির আইনজীবীরা আরও প্রশ্ন তোলেন, ঘটনার প্রায় ১৫ মাস পরে কেন এফআইআর দায়ের করা হল? অভিযোগে ১৫ লক্ষ টাকা চাওয়ার কথা বলা হলেও, সেই টাকা আদৌ দেওয়া হয়েছিল কি না, তার কোনও প্রমাণ নেই বলেও আদালতে দাবি করা হয়। কীর্তির বক্তব্য, তিনি তদন্ত এড়াতে চাইছেন না। তদন্তকারী সংস্থা যখনই প্রয়োজন মনে করবে, তিনি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। ফলে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কোনও প্রয়োজন নেই বলেই তাঁর দাবি।

Related Articles