কলকাতা

“মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি!”, সরকারি বিজ্ঞাপনে ১১ হাতের দুর্গা বিতর্কে জল ঢাললেন শুভেন্দু

ভুল স্বীকার করে নজির গড়লেন মুখ্যমন্ত্রী! সরকারি কার্ডে 'একাদশভুজা' বিতর্ক উঠতেই এজেন্সি কঠোর সতর্ক

Truth of Bengal: নতুন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রথমবার রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের অধীনে আয়োজিত হতে চলেছে বাঙালির মেগা উৎসব দুর্গাপুজো। সনাতন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বজায় রেখে পুজো সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন একাধিক নজিরবিহীন উদ্যোগ নিয়েছে। এই উপলক্ষে সোমবার কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে তামাম পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। তবে সেই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের ঠিক আগেই সরকারি আমন্ত্রণপত্র ও সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপনে মুদ্রিত মা দুর্গার ‘১১ হাত’ বিশিষ্ট ছবি ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত সব বিতর্কে জল ঢেলে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকেই নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে নিয়ে নজির গড়লেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

ঘটনার সূচনা সোমবার সকালে। মিলন মেলা প্রাঙ্গণে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের আগে বিভিন্ন পুজো কমিটির কাছে পৌঁছায় রাজ্য সরকারের অফিশিয়াল কার্ড, পাশাপাশি একাধিক খবরের কাগজেও প্রকাশিত হয় সরকারি বিজ্ঞাপন। সেখানে দেখা যায়, প্রথাগত দশভুজা রূপের বদলে মা দুর্গার প্রতিকৃতিতে স্পষ্ট ধরা পড়েছে ১১টি হাত! বিষয়টি প্রথম জনসমক্ষে এনে সামাজিক মাধ্যমে তোপ দাগেন সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষ। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “দেবতাদের পক্ষ থেকে অসুর বধের জন্য ১০টি হাত দেওয়া হলেও বিজেপি সরকার অতিরিক্ত একটি হাত দিয়েছে, যাতে পুজোর সময় নিরামিষের ফতোয়া দিতে আসা লোকজনকে সপাটে কানপটি লাল করে দেওয়া যায়!” শতরূপের এই মন্তব্যের পরই জল বহুদূর গড়ায়।

বিতর্ক চরম আকার ধারণ করলে মিলন মেলা প্রাঙ্গণে পুজো কমিটির সঙ্গে বৈঠকের সূচনাতেই মাইক্রোফোন হাতে নিজের দায় স্বীকার করে নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অত্যন্ত বিনম্র সুরে বলেন, “বৈঠক শুরু করার আগেই আমি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে হাতজোড় করে সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আজ সকালে আমাদের একটি ত্রুটিপূর্ণ বিজ্ঞাপন বেরিয়েছে। অসাবধানতাবশত হওয়া এই ভুলের জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। যে বিজ্ঞাপন সংস্থাকে এই ছাপানোর কাজ দেওয়া হয়েছিল, তাদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। আগামী দিনে সরকারি যেকোনও প্রকাশনায় যাতে এই ধরনের মারাত্মক ভুল না হয়, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে।”

উল্লেখ্য, এর আগে এই ইস্যুতে মুখ খুলে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও হালকা চালে বিষয়টিকে এজেন্সির ভুল বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তবে বিতর্ক বাড়তে দেখে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে নিজের কাঁধে দায় নিয়ে খোলাখুলি ক্ষমা চেয়েছেন, তাকে প্রশাসনিক বিচক্ষণতা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহল। এর মাধ্যমে পুজোর মুখেই এক বিতর্কিত অস্বস্তিকর অধ্যায়ের ইতি টানল নবান্ন।

Related Articles