কলকাতা

“যখন খুশি নিয়ম বদলানো চলবে না!” পোলিং অফিসার নিয়োগ বিতর্কে কমিশনকে তুলোধোনা হাইকোর্টের

বিচারপতি সাফ জানান, কমিশন যখন খুশি নিয়ম বদলাতে পারে না এবং তাদের পেশ করা নথিতে প্রচুর অসংগতি রয়েছে।

Truth of Bengal: নির্বাচন কমিশনের একটি সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাইকোর্টে নজিরবিহীন সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। অধ্যাপকদের পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মামলাকারীরা। শুক্রবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে এই মামলার শুনানি চলাকালীন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। বিচারপতি সাফ জানান, কমিশন যখন খুশি নিয়ম বদলাতে পারে না এবং তাদের পেশ করা নথিতে প্রচুর অসংগতি রয়েছে।

শুনানি চলাকালীন মেজাজ হারিয়ে বিচারপতি বলেন যে কমিশনের বিজ্ঞপ্তির যা ভাষা, তাতে এবার বিচারপতিদেরও পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা যেতে পারে। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, প্রয়োজনে বিচারপতিরা বুথে গিয়ে ডিউটি করবেন, কিন্তু নিয়মের নামে যা খুশি করা চলবে না। আদালতের এই কড়া অবস্থানের মুখে কমিশন যুক্তি দেয় যে একেবারে শেষ মুহূর্তে এই মামলা হয়েছে। এখন নতুন করে লোক নিয়োগ করে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব নয়। এই অবস্থায় আদালত হস্তক্ষেপ করলে ২৩টি জেলাতেই সমস্যা হবে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া থমকে যেতে পারে। তবে কমিশনের এই যুক্তি গ্রহণ করতে রাজি হননি বিচারপতি কৃণা রাও। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে সময়ের অভাব কোনো অজুহাত হতে পারে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কমিশন কোনো অযৌক্তিক বিজ্ঞপ্তি দিলে বিচার বিভাগ চুপ করে বসে থাকতে পারে না। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে বিচারপতি মন্তব্য করেন যে প্রয়োজনে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হোক, কমিশন সেখানে গিয়ে তাদের যুক্তি পেশ করুক। বিচারকের মতে, আদালত চোখ বন্ধ করে থাকলে এই ধরনের অনিয়ম চলতেই থাকবে।

মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য সওয়াল করেন যে কমিশনের কাছে যে রিজার্ভ অফিসাররা রয়েছেন, তাদের এই কাজে লাগানো উচিত। বিচারকদের বিশেষ কাজে ব্যবহারের যে ক্ষমতার কথা কমিশন বলছে, তা কেবল সুপ্রিম কোর্টেরই রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শেষ পর্যন্ত আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে শুক্রবারের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে তাদের বিজ্ঞপ্তির সপক্ষে যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে হবে। সন্তোষজনক উত্তর না পেলে আদালত নিজস্ব বিচারবুদ্ধি অনুযায়ী রায় দেবে। এখন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ।

Related Articles