কলকাতা

রঙের উৎসবে কড়া নজর লালবাজারের! রাজপথে মোতায়েন প্রায় ৪ হাজার পুলিশ

লালবাজার সূত্রে খবর, উৎসবের দিনগুলিতে শহরজুড়ে মোতায়েন করা হচ্ছে প্রায় ৪ হাজার পুলিশ কর্মী।

Truth of Bengal: রঙের উৎসবে কোনোভাবেই যাতে শহরের শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত না হয়, তার জন্য কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে লালবাজার। মঙ্গলবার ও বুধবার—এই দু’দিন শহরজুড়ে সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং মত্ত অবস্থায় অভব্যতা রুখতে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কলকাতা পুলিশ। বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে গঙ্গার ঘাট থেকে শুরু করে অলিগলি—সর্বত্র।লালবাজার সূত্রে খবর, উৎসবের দিনগুলিতে শহরজুড়ে মোতায়েন করা হচ্ছে প্রায় ৪ হাজার পুলিশ কর্মী। নিরাপত্তার তদারকিতে থাকছেন যুগ্ম পুলিশ কমিশনার ও ডেপুটি কমিশনার (DC) পদমর্যাদার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

মোট ৪০০টি জায়গায় পিকেট বসানো হয়েছে। এর মধ্যে ৮৬টি অতি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে থাকছেন ৬ জন করে পুলিশ কর্মী এবং বাকি ৩১২টি জায়গায় ৩ জন করে কর্মী মোতায়েন থাকছেন। ৬২টি পিসিআর (PCR) ভ্যান এবং কুইক রেসপন্স টিম (QRT) শহরজুড়ে টহল দেবে। এছাড়াও ঘিঞ্জি ও সরু রাস্তায় নজরদারির জন্য নামানো হচ্ছে পুলিশের বিশেষ বাইক বাহিনী।রাস্তায় সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকছে হেভি রেডিও ফ্লাইং স্কোয়াড। উৎসবের দিনে মদ্যপ অবস্থায় স্নান করতে নেমে যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, সেদিকে বিশেষ জোর দিচ্ছে পুলিশ। কলকাতার ৬৬টি গঙ্গার ঘাট ও বিভিন্ন জলাশয়ে থাকছে কড়া পাহারা। অন্তত ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটে মোতায়েন থাকছে বিশেষ বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (DMG)। শহরের ১০টি ডিভিশনেই একটি করে ডিএমজি টিম আপদকালীন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

রং খেলার নামে শ্লীলতাহানি বা জোর করে রং দেওয়া রুখতে লালবাজারের স্পষ্ট নির্দেশ—অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। চলন্ত গাড়ি বা বাসে অনিচ্ছুক যাত্রীদের লক্ষ্য করে রং ছোড়া দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে। বহুতলের ছাদ বা বারান্দা থেকে জলভর্তি বেলুন ছোড়ার ওপরেও থাকছে কড়া নজর। রাস্তার কুকুর বা অন্য কোনো পশুর গায়ে রং লাগানো রুখতে শহরজুড়ে প্রচার শুরু করেছে পুলিশ। টহলরত বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে কোনো অবলা প্রাণীর ওপর অত্যাচার না হয়। উৎসবের আবহে শান্তি বজায় রাখতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং বেআইনি মদের ব্যবসার বিরুদ্ধেও অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। মত্ত অবস্থায় রাস্তায় ‘বেলল্লাপনা’ করলেই সরাসরি গ্রেফতারির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। লালবাজারের স্পষ্ট বার্তা—উৎসব হোক আনন্দের, আতঙ্কের নয়।

Related Articles