অভিষেকের পর এবার রাজীব-কুণাল-শোভনদেব! তৃণমূলের ১০ হেভিওয়েটের নিরাপত্তা কমাল লালবাজার
উধাও বাড়ির সামনের পুলিশি পাহারা! ভোট মিটতেই তৃণমূলের ১০ হেভিওয়েটের ডানা ছাঁটলেন শুভেন্দু
Truth of Bengal: বাংলায় রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানোর পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে একের পর এক বড়সড় রদবদল চোখে পড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার ক্ষমতায় বসার পরেই তৃণমূলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজকীয় নিরাপত্তা ছেঁটে ফেলেছিল। এবার সেই একই পথ অনুসরণ করে তৃণমূলের আরও ১০ জন প্রথম সারির নেতা, সাংসদ এবং প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়ির নিরাপত্তা একঝাক্কায় কমিয়ে দিল লালবাজার।
সাংসদ-বিধায়কের বাইরে অতিরিক্ত খাতির বন্ধ
তৃণমূল জমানায় দলের বহু নেতা ও মন্ত্রী পদের তুলনায় অনেক বেশি পুলিশি নিরাপত্তা পেতেন বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ তুলছিল বিজেপি। এবার সেই ‘অতিরিক্ত’ সুবিধায় কোপ বসাল নতুন সরকার। লালবাজার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, একজন সাংসদ বা বিধায়ক নিয়ম মেনে যতটুকু নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারী, ঠিক ততটুকুই পাবেন। কোনও বাড়তি হাউস গার্ড বা পুলিশের চাদরে মুড়ে রাখা আর হবে না।
তালিকায় কারা কারা রয়েছেন?
লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমারের নিরাপত্তা যেমন কমানো হয়েছে, তেমনই ডানা ছাঁটা হয়েছে লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। বাদ যাননি বর্তমান বিরোধী দলনেতা প্রবীণ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এঁদের সবার বাড়ির সামনে থেকে হাউস গার্ড সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সুব্রত বক্সী এবং প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের (যিনি এবারের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন) নিরাপত্তা বলয় তুলে নেওয়া হয়েছে। এপ্রসঙ্গে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতাদের নিরাপত্তা কাটছাঁটের তালিকায় নিজের নাম দেখেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন কুণাল ঘোষ। ‘না জানা বা অর্ধেক জানা পণ্ডিতদের’ তীব্র কটাক্ষ করে বেলেঘাটার বিধায়ক স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর ক্ষেত্রে লালবাজার যেভাবে সাধারণ সার্কুলার জারি করে নিরাপত্তা তুলেছে, তা আইনত দণ্ডনীয়। কারণ, এই নিরাপত্তা কোনো রাজনৈতিক কারণে নয়, আদালতের নির্দেশে রাজ্য পুলিশ দিতে বাধ্য হয়েছিল।
বাদ গেলেন না প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি-ও
নেতাদের পাশাপাশি কোপ পড়েছে আমলাতন্ত্রেও। ডিরেক্টর অব সিকিউরিটি পীযূষ পাণ্ডে, যিনি আগের সরকারের আমলে ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি-র দায়িত্ব সামলেছেন, তাঁর নিরাপত্তাতেও বড়সড় কাটছাঁট করা হয়েছে বলে লালবাজার সূত্রে খবর।
স্বাভাবিকভাবেই নতুন সরকারের এই ‘সিকিউরিটি অডিট’ নিয়ে তৃণমূল শিবিরের অন্দরে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিষয়টিকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাগিয়ে দিচ্ছে ঘাসফুল শিবির। অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় দলের নেতাদের ভিভিআইপি বিলাসিতা পাইয়ে দেওয়ার দিন এবার শেষ।






