কলকাতা

এবার কারা পাবে দুর্গাপুজোর অনুদান, ক্লাবগুলিকে সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

মেগা বাজেটের পুজোগুলোর সরকারি টাকা বন্ধ? মমতা জমানার নিয়মে বিরাট কোপ বসালেন শুভেন্দু অধিকারী!

Truth of Bengal: ছাব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নবান্নের মসনদে বসেই একের পর এক কড়া সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দায়িত্ব নিয়েই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ধর্মের ভিত্তিতে দেওয়া সমস্ত রকম পক্ষপাতমূলক ভাতা অবিলম্বে বন্ধ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই অনড় অবস্থানের পর থেকেই রাজ্যের হাজার হাজার পুজো কমিটির কর্মকর্তাদের মনে একটা বড় সংশয় ও প্রশ্ন দানা বাঁধছিল, তাহলে কি এবার বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদানও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে? অবশেষে শুক্রবার নিউটাউনের এক অনুষ্ঠান থেকে এই বহু প্রতীক্ষিত পুজো অনুদান নিয়ে সরকারের অবস্থান ১০০ শতাংশ স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

“যাদের প্রয়োজন শুধু তারাই পাবে, বড় পুজো নয়”

শুক্রবার নিউটাউনের মঞ্চ থেকে পুজো কমিটিগুলোর উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকার ঢালাওভাবে সবার অনুদান বন্ধ করছে না। তবে এই সরকারি অর্থ বণ্টনে আনা হচ্ছে এক বিশাল স্বচ্ছতা ও পরিবর্তন। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “রাজ্যের যে সমস্ত ছোটো ও মাঝারি ক্লাব পুজো করার জন্য পুরোপুরি এই সরকারি টাকার ওপর নির্ভর করে থাকে, যারা ওই টাকার ওপর ভিত্তি করেই পুজোর আয়োজন করে, তাঁরা অবশ্যই অনুদান পাবেন। কিন্তু যাদের বিপুল জৌলুস রয়েছে, স্পন্সর রয়েছে এবং এই সরকারি অর্থের কোনও প্রয়োজন নেই, তাঁরা আর এক টাকাও পাবেন না।” অর্থাৎ, মুখ্যমন্ত্রীর এই নতুন ফর্মুলা অনুযায়ী, কলকাতার বুকে থাকা বড় ও কোটি টাকার বাজেটের পুজো ক্লাবগুলো এবার থেকে সরকারি অনুদানের তালিকা থেকে চিরতরে বাদ পড়তে চলেছে।

মমতা জমানার ১ লক্ষ ২০ হাজারের রেকর্ডে রাশ

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ক্লাবগুলোর আর্থিক সমস্যার কথা মাথায় রেখে প্রথমবার দুর্গাপুজোয় সরকারি অনুদান দেওয়ার প্রথা চালু করেছিলেন। প্রথম বছর প্রতিটি ক্লাবকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া শুরু হলেও, বিরোধীরা সরকারি কোষাগারের টাকা এভাবে পুজোয় খরচ করা নিয়ে তীব্র সোচ্চার হয়েছিলেন। তবে সেই সমস্ত সমালোচনাকে পাত্তাই দেননি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। বন্ধ করা তো দূর অস্ত, প্রতি বছরই এই অনুদানের অঙ্ক লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ানো হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত ২০২৫ সালের দুর্গাপুজোয় রাজ্যের প্রতিটি পুজো কমিটিকে নজিরবিহীনভাবে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকার। যার ফলে রাজ্যের কোষাগার থেকে এক বিশাল অঙ্কের টাকা খরচ হয়ে যেত। বিশেষ করে যে সমস্ত নামী ক্লাবের পুজোর বাজেট কয়েক কোটি টাকা, তাঁদের কেন সাধারণ ট্যাক্সদাতার টাকা দিয়ে সাহায্য করা হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও একটা বড় ক্ষোভ ছিল। ছাব্বিশের নতুন বঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেই ‘অপচয়’ রুখতেই যে এই অভাবী ও বড় ক্লাবের ভেদাভেদ নীতি আনলেন, তা বলাই বাহুল্য। মুখ্যমন্ত্রীর এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাচ্ছে আমজনতাও।

Related Articles