কলকাতা

চিনি-তেল-রসুনের অগ্নিমূল্য! মুখ্যমন্ত্রীর মারাত্মক হুঁশিয়ারির পরদিন-ই বাজারে বাজারে ইবির হানা

রান্নাঘরের টান রুখতে মাঠে ইবি-র ১০টি টিম! জেলাতেও হঠাৎ চাল-চিনি মজুতকারীদের ওপর সাঁড়াশি চাপ

Truth of Bengal: রান্নাঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় রসদ চিনি, ভোজ্য তেল, রসুন ও পেঁয়াজের আকস্মিক অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধি রুখতে এবার অত্যন্ত কড়া অবস্থানে রাজ্য সরকার। সোমবারই নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে বেআইনি মজুতদারদের বিরুদ্ধে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাজার দর নিয়ন্ত্রণে আনতে তাঁর দেওয়া স্পষ্ট নির্দেশিকার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মঙ্গলবার সকাল থেকে অ্যাকশনে নেমে পড়ল এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (EB)। রাজধানী কলকাতার পাশাপাশি জেলাতেও কাঁচাবাজার ও আড়তগুলিতে সাঁড়াশি অভিযান চালাল পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তারা।

সোমবার মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছিলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের এই অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজি ও বেআইনি মজুতদারির হাত রয়েছে। লিকেজ ঠিক কোথায়, তা সরকারের নজরে এসেছে উল্লেখ করে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, “শক্তিশালী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এখানে অন্যায়ের কোনও সুযোগ থাকবে না। দ্রুত চিনির দাম-সহ বাকি জিনিসের দর নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।” বিশেষ করে গত ২০ দিনে ইথানল সংকট ও কৃত্রিম ঘাটতির অজুহাতে প্রতি কেজি চিনির দাম ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যবিত্তের পকেটে টান পড়েছে, যা নবান্ন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কারের পরই সোমবার গভীর রাতে লালবাজারের নির্দেশে ইবি-র ১০টি বিশেষ পরিদর্শন টিম গঠন করা হয়। মঙ্গলবার সকালেই ওই টিমগুলি উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার একাধিক পাইকারি ও খুচরো বাজারে আচমকা অভিযানে বের হয়। শিয়ালদহের কোলে মার্কেট থেকে শুরু করে ভবানীপুরের যদুবাবুর বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন আড়ত ও পাইকারি দোকানে দোকানে গিয়ে ইবি আধিকারিকরা খতিয়ে দেখেন কেউ বেআইনিভাবে চাল, চিনি বা ভোজ্য তেল অতিরিক্ত মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে কি না। ক্রয় ও বিক্রয় মূল্যের রসিদ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি অসঙ্গতি পেলেই কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

শুধু কলকাতাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি এই প্রশাসনিক অ্যাকশন। জেলাস্তরেও বাজার নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও ব্লক প্রশাসনের যৌথ দল নেমেছে অভিযানে। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের মতো বিভিন্ন জেলা শহরের কাঁচাবাজার, মাছের বাজার এমনকি হোটেলগুলিতেও খাদ্য সুরক্ষার মান ও মজুত পরিস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। রাজ্য সরকারের এই ঝটিকা অভিযানের পর অসাধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, এবং সাধারণ মানুষের আশা, শীঘ্রই সাধারণের নাগালের মধ্যে ফিরবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম।

Related Articles