কলকাতা

মরণ ফাঁদ শহরে, একাধিক ফিডার বক্সের মুখ খোলা

প্রবল বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু মিছিল কলকাতায়

Truth Of Bengal: এমন দুর্যোগ সাম্প্রতিক কালে দেখা যায়নি শহর কলকাতায়। তেমন সেই দুর্যোগে এত মানুষকে বলি হতে হয়নি। প্রবল বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু মিছিল কলকাতায়। সকাল থেকে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বিদ্যুত্স্পৃ ষ্ট হয়েছে। শহরের রাস্তা যখন জলে ভাসছে, তখন বহু জায়গায় ডুবে যায় ক্যালকাটা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কর্পোরেশন বা সিইএসসি-র ফিডার বক্স। আবার অনেক জায়গায় দেখা যায় বিদ্যুতের খুঁটির নীচে থাকা বক্স-ও জলে ডুবে যায় (Fidar box)। এই সব জায়গা কার্যত মরণফাঁদ হয়ে আছে। আর সেই গাফিলতির মাসুল দিতে হল এতগুলি প্রাণকে। এই বিপর্যয়ের দায় ক্যালকাটা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কর্পোরেশন বা সিএসসি-র ওপর চাপালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিইএসসি-কে রীতিমতো তুলোধনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার কথায়, ‘ওদের বলতে বলতে আমার মুখ ব্যথা হয়ে গিয়েছে। অনেকবার বলেছি। সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সঙ্গে ইতিমধ্যেই কথা বলেছি। এখানে ব্যবসা করছে। আর মর্ডানাইজেশনের কাজ করছে রাজস্থানে। আর এখানে আধুনিকীকরণের কাজ করছে না। বলতে বলতে আমার মুখ ব্যথা হয়ে গিয়েছে।’ এরপরেই মৃতদের পরিবারকে একজন সদস্যকে সিইএসসি-তে চাকরি দেওয়ারও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘সিইএসসি চাকরি দেবে। না হলে আমরা দেখব।’

আরও পড়ুনঃ নির্বাচনের বিষয়ে মন্ত্রীসভার সাংবাদিক বৈঠক, পুলিশদের বডি ক্যামেরা দেওয়ার সিদ্ধান্তঃ অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

উৎসবের আবহে প্রাকৃতিক দুর্যোগে এতগুলি মৃত্যুতে নেমেছে শোকের ছায়া। মৃতদের মধ্যে একজন নেতাজিনগরের বাসিন্দা, একজন কালিকাপুরের বাসিন্দা, একজন বালিগঞ্জ প্লেস (গড়িয়াহাট) এর বাসিন্দা, একজন বেনিয়াপুকুরের বাসিন্দা, একজন একবালপুরের বাসিন্দা, একজন হরিদেবপুরের বাসিন্দা, একজন বেহালার ও একজন শেক্সপিয়ার সরণির বাসিন্দা।
এতগুলি প্রাণ চলে যাওয়ার দায় কার? কার গাফিলতি? উঠছে এই প্রশ্ন। তবে সরাসরি সিইএসসি-কে দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। গ্রেটার কলকাতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে একমাত্র সিইএসসি। দ্বিতীয় আর কোনও প্রতিযোগী সংস্থা নেই। তা ছাড়া এই শহরে বিদ্যুতের দাম অনেক বেশি। সাধারণ মানুষ উপায়হীন বলে সিইএসসি-র ওপর ভরসা করে। যে সংস্থা এই শহর থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করছে তাদের কি দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না বিপদহীন পরিষেবা দেওয়া? কেন এখনও রাস্তার ধারে খোলা ফিডার বক্স থাকবে? কেন সিইএসসি সেটা দেখবে না? তাদের গাফিলতির মাসুল কেন দিতে হবে সাধারণ মানুষকে? পুজো উপলক্ষে অনেক জায়গায় অস্থায়ী পরিকাঠমো গড়ে বিদ্যুৎ পরিষেবা দিতে হচ্ছে। এমন নয় যে সেটা বিনা পয়সায় দিচ্ছে সিইএসসি। সেখানে দেখা যাচ্ছে সাধারণ নিরাপত্তার কোনও বালাই নেই। টিন দিয়ে ঘিরে অস্থায়ী ফিডার বক্স গড়ে পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। যা আবার খোলা অবস্থায় থাকছে। সব মিলিয়ে ফের একবার সিইএসসি-র চূড়ান্ত গাফিলতি সামনে এল। যার বলি হতে হল ৯ জনকে। (Fidar box)

লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal

যার জন্য সিইএসসি-কে নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বেলার দিকে সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘আজ সিইএসসি-র অবহেলায় কলকাতায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যাঁরা মারা গেলেন, তাঁদের পরিবারের জন্য আমাদের আন্তরিক সমবেদনা। মৃত্যুর কোনো ক্ষতিপূরণ হয় না, জীবনের কোনও বিকল্প হয় না। তবুও আমরা প্রতি পরিবারের একজনের চাকরি নিশ্চিত করব। ক্ষতিপূরণ দিতে বলছি সিইএসসি-কে। আমি সিইএসসি-র সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের আন্তরিক সমবেদনার পাশাপাশি এই ক্ষতিপূরণ-ও পরিবারগুলির প্রাপ্য।’ (Fidar box)