কলকাতা

গঙ্গার নিচে টানেল তৈরির ভাবনা

অন্যদিকে মায়ানমারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের জন্য কালাদান মাল্টিমোডাল প্রকল্পে পারিপার্শ্বিক কিছু সমস্যার কারণে ধীরে ধীরে কাজ চলছে বলে শ্রী ঠাকুর জানিয়েছেন।

রাহুল চট্টোপাধ্যায়: গঙ্গার নিচে টানেল ‌তৈরীর বিষয়টি চিন্তাভাবনা স্তরে রয়েছে বলে কেন্দ্রীয় বন্দর,জাহাজ ও জলপথ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর জানিয়েছেন। কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে নাবিক ও জাহাজ কর্মীদের জন্য কয়েকটি প্রকল্পের সূচনা করে তিনি বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রথেন্দ্র রমণ বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গড়করির কাছে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলের জন্য কলকাতা থেকে সাঁকরাইল পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হবে এর মধ্যে প্রায় ৭ কিলোমিটার টানেল গড়ে তোলা হবে। তবে বিষয়টিতে এখনো কেন্দ্রের তরফে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। শীঘ্রই এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে শ্রী ঠাকুর জানিয়েছেন। পাশাপাশি হুগলির বলাগড়ে জেটি নির্মাণ প্রকল্প সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জানান, সেখানে পুরোদমে কাজ চলছে। রাস্তা নির্মাণ ও পরিবেশের জন্য ইতিমধ্যেই ছাড়পত্র পাওয়া গেছে। আপাতত সেখানে বন্দর কর্তৃপক্ষের জমিতেই কাজ চলছে। অন্যদিকে মায়ানমারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের জন্য কালাদান মাল্টিমোডাল প্রকল্পে পারিপার্শ্বিক কিছু সমস্যার কারণে ধীরে ধীরে কাজ চলছে বলে শ্রী ঠাকুর জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেন,দেশের মেরিটাইম ব্যবস্থাকে উন্নত করতে হলে নাবিক ও অন্যান্য জাহাজ কর্মীদের কল্যাণ সবার আগে প্রয়োজন।

চিত্র: নিজস্ব

কলকাতায় এমএমডি পাটনা দফতর এর সূচনা ও নাবিক কল্যাণ নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
ভারত সরকারের বন্দর, নৌপরিবহণ ও জলপথ মন্ত্রকের অধীন ডিরেক্টরেট জেনারেল অব শিপিং (ডিজিএস) মারক্যান্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট (এমএমডি) পাটনা দফতর এবং একটি ‘সিফ্যারার্স আউটরিচ সেন্টার’-এর সূচনা করে তিনি এ কথা বলেন ।পাশাপাশি কলকাতার নাবিক গৃহ সমিতি ও মেরিন ক্লাবের পুনর্গঠন কাজেরও সূচনা করা হয়েছে।
ওই অনুষ্ঠানে ‘সিফ্যারার্স রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার’ শীর্ষক এক সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বন্দর, নৌপরিবহণ ও জলপথ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। উপস্থিত ছিলেন ওই মন্ত্রকের সচিব বিজয় কুমার, ডিরেক্টর জেনারেল অব শিপিং শ্যাম জগন্নাথন, অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল অব শিপিং সুশীল খোপোডে -সহ অন্যান্য আধিকারিকেরা।

চিত্র: নিজস্ব

আধিকারিকরা জানান,নতুন এমএমডি দফতর পাটনা ও আউটরিচ সেন্টার চালু হওয়ায় পূর্ব ভারতের নাবিকদের জন্য নিয়ন্ত্রক পরিষেবা ও কল্যাণমূলক সহায়তা আরও সহজলভ্য হবে। বিশেষত বিহার ও আশপাশের রাজ্যের নাবিকেরা সনদ সংক্রান্ত পরিষেবা, নথিপত্রের সহায়তা, অভিযোগ নিষ্পত্তি সহ অন্যান্য কল্যাণমূলক পরিষেবা পাবেন।
সিম্পোজিয়ামে প্রায় ২০০ জন অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কর্মরত নাবিক, ক্যাডেট এবং সামুদ্রিক ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা। আরো উপস্থিত ছিলেন জাহাজ মালিকদের সংগঠন, শিপ ম্যানেজার, আরপিএসএল সংস্থা, সামুদ্রিক শ্রমিক সংগঠন, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ও সরকারি আধিকারিকেরা।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল দুটি প্যানেল আলোচনা।

প্রথম অধিবেশন, ‘সিফ্যারার ক্যাজুয়ালটি: রাইটস, রিলিফ অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটি’, সমুদ্রে মৃত্যু, নিখোঁজ হওয়া বা গুরুতর আহত হওয়ার মতো ঘটনাগুলির উপর কেন্দ্রীভূত ছিল। বক্তারা ক্ষতিপূরণের কাঠামো, বীমা সংক্রান্ত দায়বদ্ধতা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে দ্রুত আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
দ্বিতীয় আলোচনার বিষয় ছিল ‘সিফ্যারার্স অ্যাব্যান্ডনমেন্ট অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার’। সেখানে মজুরি সুরক্ষা, আর্থিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি মানা, প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া এবং আরও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মত বিনিময় হয়।
আধিকারিকদের মতে, এই সিম্পোজিয়ামের উদ্দেশ্য ছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা, শিল্পক্ষেত্রের প্রতিনিধি, শ্রমিক সংগঠন, আইনি বিশেষজ্ঞ এবং কল্যাণমূলক সংগঠনগুলির মধ্যে আলোচনা বাড়ানো।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, অভিযোগ ব্যবস্থাপনা এবং সামুদ্রিক ক্ষেত্রে জবাবদিহি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
ডিরেক্টরেট জেনারেল অব শিপিং জানিয়েছে, এমএমডি দফতর পাটনা উদ্বোধন, আউটরিচ সেন্টার, কলকাতার উন্নয়নমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের নাবিকদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণে আরও জোর দেওয়া হবে।