চিংড়িহাটা উড়ালপুলে গাড়ির গতিতে লাগাম টানতে তৎপরতা! প্রতি ১০ মিটারে বসল ‘রোড ক্যাটস আই’
চিংড়িহাটা উড়ালপুলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতেই এই উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে
Truth of Bengal: চিংড়িহাটা উড়ালপুলে দুর্ঘটনা এড়াতে বড়সড় পদক্ষেপ করল প্রশাসন। রাতভর কাজ চালিয়ে উড়ালপুলের রাস্তায় বসানো হল রোড ক্যাটস আই বা রোড স্টাড। প্রায় ১০ মিটার অন্তর বসানো হয়েছে আলো প্রতিফলক এই নিরাপত্তা ডিভাইস। কাজ শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় উড়ালপুল। বর্তমানে সেখানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। চিংড়িহাটা উড়ালপুলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতেই এই উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে। বুধবার মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এরপরই উড়ালপুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই মতো বুধবার রাতে উড়ালপুলে রোড স্টাড বসানোর কাজ শুরু হয়। কাজ চলাকালীন যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে কাজ শেষ হলে ফের খুলে দেওয়া হয় উড়ালপুল।
কী এই রোড ক্যাটস আই?
রোড ক্যাটস আই বা রোড স্টাড হল রাস্তার উপর বসানো এক ধরনের আলো প্রতিফলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সাধারণত রাস্তার মাঝখানে কিংবা লেনের সীমানা বরাবর এই ডিভাইস বসানো হয়। রাতে গাড়ির হেডলাইটের আলো পড়লে এটি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ফলে অন্ধকারে কিংবা ঘন কুয়াশার মধ্যে চালকেরা রাস্তার সীমানা, লেন এবং বাঁক সহজে বুঝতে পারেন। এর ফলে গাড়ির গতিপথ ঠিক রাখা সহজ হয় এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমানো সম্ভব বলে মনে করা হয়। চিংড়িহাটা উড়ালপুলে আগে রাস্তার উপর যে রং করা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, ওই রঙের কারণে বৃষ্টির সময় রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে। সেই পরিস্থিতিতে রোড স্টাড বসানোর মাধ্যমে চালকদের লেন বুঝতে সুবিধা করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পরই বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে। রাস্তার বিভিন্ন রঙের প্রলেপের কারণে চালকদের চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। প্রয়োজন হলে বিকল্প ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী।


