কলকাতা

কুয়াশার চাদরে ঢেকেছে বাংলা, হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় কাঁপছে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ

Truth Of Bengal: বছরের শেষপ্রান্তে এসে শীতের জোরালো দাপটে কাঁপছে গোটা বাংলা। উত্তর থেকে দক্ষিণ, সব জায়গাতেই এখন কনকনে ঠান্ডার প্রভাব স্পষ্ট। এই শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ঘন কুয়াশার দাপটও। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, দক্ষিণবঙ্গের বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, হুগলি, পশ্চিম বর্ধমান এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ উত্তরবঙ্গের ৮টি জেলায় কুয়াশার প্রকোপ থাকবে। দৃশ্যমানতা ২০০ মিটারের নীচে নেমে যেতে পারে বলে একাধিক জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

নতুন বছর শুরু হতে আর মাত্র তিন দিন বাকি। বর্ষশেষের এই সময়ে দক্ষিণবঙ্গে জাঁকিয়ে শীত থাকলেও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস হাওয়া অফিসের। গত কয়েক দিন ধরে দক্ষিণবঙ্গে পারদ ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করলেও রবিবার তা ১৪ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অল্প বেশি। আপাতত এই পরিস্থিতিই বজায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে দিনের আকাশ পরিষ্কার থাকবে। তবে সকাল ও ভোরের দিকে কুয়াশার দাপট বজায় থাকবে। কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রার এই সামান্য বৃদ্ধি পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবেই। যদিও তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও শীতের আমেজ যথেষ্ট থাকবে। নতুন বছরের শুরুতে তাপমাত্রা আরও ২ থেকে ৩ ডিগ্রি বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। গাঙ্গেয় এলাকার তুলনায় পশ্চিমের জেলাগুলিতে শীতের কামড় বেশি অনুভূত হবে।

বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামের মতো পশ্চিমের জেলাগুলিতে পারদ ৭ থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করতে পারে। সেই সঙ্গে ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রবিবার দক্ষিণবঙ্গের শীতলতম স্থান ছিল বাঁকুড়া, যেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছিল ৯.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় আরও কড়া। সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে নীচে নামতে পারে বলে পূর্বাভাস। সমতলের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ৯ থেকে ১২ ডিগ্রির মধ্যে থাকলেও উপরের পাঁচটি জেলায় পারদ ৪ থেকে ৬ ডিগ্রির ঘরে নেমে আসতে পারে। রবিবার উত্তরবঙ্গের সমতলে শীতলতম স্থান ছিল আলিপুরদুয়ার, যেখানে তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

পাহাড়ি শহর দার্জিলিংয়ে রবিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৪.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার থেকে দার্জিলিং ও পার্শ্ববর্তী শৈলশহরগুলিতে বৃষ্টি বা তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন বছরের প্রথম দু’দিনেও বৃষ্টি বা তুষারপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস। সব মিলিয়ে, ঘন কুয়াশা আর হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যেই নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত বাংলা।

Related Articles