সাংগঠনিক পদে বিরাট রদবদল বিজেপির, বিজেপি মহিলা মোর্চার নতুন সভানেত্রী অভিনেত্রী অঞ্জনা বসু
শুক্রবার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন মুখ আনার কথা ঘোষণা করা হয়েছে
Truth of Bengal: পুজোর পরই রাজ্যে পুরভোটের প্রস্তুতি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা। তার আগেই সংগঠনে বড়সড় রদবদল করল রাজ্য বিজেপি। শুক্রবার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন মুখ আনার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। মহিলা, যুব ও ওবিসি মোর্চা থেকে শুরু করে সাংগঠনিক জেলা সভাপতি এবং রাজ্য নেতৃত্বের বিভিন্ন পদেও পরিবর্তন হয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, মূলত ‘এক পদ, এক ব্যক্তি’ নীতি মেনেই এই রদবদল। এই নীতির জেরেই সাংগঠনিক পদ থেকে সরানো হয়েছে রাজ্যের তিন মন্ত্রী তাপস রায়, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং অগ্নিমিত্রা পালকে। সবচেয়ে বড় চমক মহিলা মোর্চার নেতৃত্বে। অগ্নিমিত্রা পালের জায়গায় মহিলা মোর্চার সভানেত্রী হয়েছেন অভিনেত্রী অঞ্জনা বসু। দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার পুরস্কার হিসেবেই তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রের দাবি।
সংগঠনের রদবদল নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছিল। শুক্রবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে নতুন দায়িত্ব বণ্টনের কথা জানানো হয়। যুব মোর্চার সভাপতি পদেও পরিবর্তন হয়েছে। বেহালা পশ্চিমের ইন্দ্রনীল খাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন বিধায়ক অমিত সামন্ত। রাজ্য সাধারণ সম্পাদক পদে আনা হয়েছে লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁকে। পাশাপাশি বারাসত, বনগাঁ, শ্রীরামপুর, আরামবাগ, মেদিনীপুর, বর্ধমান এবং কাটোয়া—এই সাত সাংগঠনিক জেলায় জেলা সভাপতি বদল করা হয়েছে।
রাজ্য সম্পাদক পদ থেকে সরানো হয়েছে যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে। অন্যদিকে, দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তাকে রাজ্য সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলীয় মহলের ব্যাখ্যা, ‘এক পদ, এক ব্যক্তি’ নীতি কার্যকর করার পাশাপাশি আসন্ন পুরভোটের কথা মাথায় রেখেই সংগঠনকে নতুন করে সাজানো হয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর একাধিক পুরসভায় বোর্ড ভাঙা, কাউন্সিলর ও চেয়ারম্যানদের ইস্তফার ঘটনায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে পুরসভাগুলিতে সংগঠন আরও শক্তিশালী করাই বিজেপির লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।






