‘দফতরে বসে কাজ করুন’, অগ্নিমিত্রা-শারদ্বতের ‘অতিসক্রিয়তায়’ পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রীর
অগ্নিমিত্রা ও শারদ্বতকে দফতরে বসে মন দিয়ে কাজ করার কড়া পরামর্শ! নবান্নের মন্ত্রিসভার বৈঠকে তুমুল চাঞ্চল্য
Truth of Bengal: সোশ্যাল মিডিয়ায় সস্তা লাইক ও ক্যামেরার সামনে ‘অতিসক্রিয়তা’ দেখানোর নাম করে রাস্তায় নেমে নাটক বন্ধ করার কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্নে আয়োজিত রাজ্য মন্ত্রিসভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুদ্ধদ্বার বৈঠকে স্বদলে থাকা দুই বিশিষ্ট হেভিওয়েট মন্ত্রীকে ‘দফতরে বসে মন দিয়ে প্রশাসনিক কাজ করার’ স্পষ্ট ও কড়া নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্নের বিশ্বস্ত প্রশাসনিক সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর এই বিশেষ ‘পরামর্শ’ ও সতর্কবার্তার মুখে পড়েছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং রাজ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
সম্প্রতি পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের একাধিক ‘পথ-তৎপরতা’ ও বিতর্কিত ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। কখনও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে গিয়ে ছোট সবজি বিক্রেতা বা রাস্তায় স্টোভ জ্বালিয়ে ফুটপাতে চা-দুধ তৈরি করা চরম দরিদ্র মহিলার সঙ্গে প্রকাশ্য বচসায় জড়িয়ে পড়া, কখনও মাইক হাতে সাধারণ মানুষকে ধমক দেওয়া, আবার কখনও বাজারের ভেতর সাইকেল রাখা নিয়ে পথচলতি মানুষকে হুমকি দিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। এমনকি ফুটপাথবাসীদের রাখি পরানো ও উপহার বিলানোর ছবি তুলে প্রচার করার বিষয়েও অসন্তুষ্ট মুখ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও সম্প্রতি জনসংযোগের নামে বিভিন্ন হাসপাতালে আচমকা পরিদর্শন ও ভিডিওগ্রাফি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তার ওপর বুধবারই বিধাননগরের বিধায়ক দরবারে প্রতিবেশী রাজারহাট-নিউটাউনের বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়ার সঙ্গে প্রকাশ্যে হাতাহাতি ও বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন শারদ্বত। এসব প্রশাসনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের পরই নবান্নের বৈঠকে দু’জনকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে দফতরে বসে কাজ সামলানোর নির্দেশ দেন শুভেন্দু।
নবান্নের বৈঠক থেকে কেবল মন্ত্রীদের কানমলাই নয়, রাজ্যের হাজার হাজার বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বিশাল সুখবর এনে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি প্রতিটি দফতর ধরে ধরে আটকে থাকা নিয়োগপ্রক্রিয়ার দ্রুত সমাধানের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, প্রতি সরকারি দফতরে গড়ে প্রায় ১০ হাজার কর্মী নিয়োগ করে প্রশাসনিক পরিষেবা দ্রুত মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, খুব শীঘ্রই কলকাতা পুলিশে ২,০০০ এবং রাজ্য পুলিশে ৬,০০০ কর্মী অর্থাৎ মোট ৮,০০০ শূন্যপদে মেগা নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে। বিষয়টি আপাতত আদালতে বিচারাধীন থাকলেও আইনি জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত নিয়োগ শুরু করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি সমস্ত মন্ত্রীদের নির্ধারিত বাজেট বরাদ্দের প্রতিটি টাকা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনামাফিক খরচের কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।






