“মিষ্টি দই খাইয়ে বঙ্গবাসীর মিষ্টিমুখ!” সাঁকরাইলে আমুলের প্রজেক্টের ভার্চুয়াল উদ্বোধনে বললেন অমিত শাহ
প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে
Truth of Bengal: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় ক্ষমতা দখলের পর রাজ্যে শিল্প ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে বিজেপি সরকার। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই রবিবার হাওড়ার সাঁকরাইলে আমুলের নতুন দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ কারখানার ভার্চুয়াল সূচনা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রস্তাবিত কারখানাটি বিশ্বের বৃহত্তম দই উৎপাদন কেন্দ্রগুলির অন্যতম হতে চলেছে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। কারখানাটি চালু হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা রাজ্য সরকারের।
শিলান্যাস অনুষ্ঠানে অমিত শাহ বলেন, বাংলায় বিজেপির জয়ের পর রাজ্যবাসীর উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা পূরণে কেন্দ্র এবং রাজ্য একসঙ্গে কাজ করছে। নতুন আমুল প্রকল্পকে বঙ্গবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশেষ উপহার হিসেবেও তুলে ধরেন তিনি। মিষ্টি দইয়ের প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলার মানুষের ‘মিষ্টিমুখ’ করানো হচ্ছে। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর আমুলের এটি দ্বিতীয় বড় বিনিয়োগ বলে জানানো হয়েছে। সাঁকরাইলের নতুন কারখানায় দুধ, দই, মিষ্টি দই-সহ বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্য তৈরি হবে। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পণ্য সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে মিষ্টি দইয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে তার উৎপাদনে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হবে। রাজ্য সরকারের দাবি, প্রকল্পটি চালু হলে স্থানীয় দুগ্ধ উৎপাদক ও পশুপালকেরাও উপকৃত হবেন। দুধ সংগ্রহ, পরিবহণ, সংরক্ষণ এবং বিপণনের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই উদ্যোগকে বাংলায় ‘সাদা বিপ্লব’-এর সূচনা বলে উল্লেখ করেছেন। প্রকল্পটির জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানান তিনি। শুভেন্দু আরও ঘোষণা করেন, দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও আমুলের আরও একটি কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে একটি আইসক্রিম উৎপাদন কেন্দ্র তৈরির জন্য সংস্থার কাছে আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকারের আশা, সাঁকরাইলের এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বাংলার দুগ্ধশিল্পে নতুন গতি আসবে। পাশাপাশি বৃহৎ বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্পবান্ধব রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের নতুন পরিচিতি গড়ে উঠবে।





