আত্মনির্ভতার প্রচার যতটা হচ্ছে ততটা স্বদেশি সামরিক সরঞ্জাম পাচ্ছে না বাহিনী, বিস্ফোরক বায়ুসেনা কর্তা
The forces are not getting indigenous military equipment as much as self-reliance is being promoted

The Truth of Bengal: রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব আকাশ, স্থল, সমুদ্র, সাইবার, তথ্য এবং মহাকাশের ডোমেনে একাধিক শক্তির একীকরণ প্রদর্শন করেছে। এই যুদ্ধ দেখিয়েছে কিভাবে এই শক্তিগুলো লক্ষ্য অর্জনে ঐক্যবদ্ধ। ভারতীয় বায়ুসেনার ডেপুটি চিফ এয়ার মার্শাল এপি সিং শুক্রবার একথা জানিয়েছেন। এয়ার মার্শাল এপি সিং প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরতার উপর জোর দিয়ে বলেছেন যে এটি দেশের নিরাপত্তার মূল্যে হতে পারে না। তিনি ডিআরডিও থেকে শুরু করে ডিপিএসইউ এবং প্রাইভেট কোম্পানিগুলিকে আজকের সময়ের প্রয়োজন অনুসারে সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয় সিস্টেম এবং অস্ত্র রয়েছে তা নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতির নিরাপত্তা ও আত্মনির্ভরশীলতা দুটোই প্রয়োজন।
দিল্লিতে এয়ার অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্সে আয়োজিত সেমিনার অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি বলেন, ‘আত্মনির্ভরতা’ শুধুমাত্র একটি জনপ্রিয় শব্দ নয়। বরং, এটি এমন কিছু যা সমস্ত স্টেকহোল্ডারদের তাদের হৃদয় এবং আত্মা যোগ করতে হবে। তিনি বলেন, ভারতে প্রযুক্তি ও অস্ত্রের বিকাশ ও উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে আমাদের কোনো বহিরাগত সংস্থার ওপর নির্ভর করতে না হয়। যা সময় হলে তার মিত্রদের পরিবর্তন করতে পারে বা আমাদের দেশে তার অস্ত্রের প্রবাহ বন্ধ করতে পারে। এয়ার মার্শাল এপি সিং বলেন, একটা জিনিস নিশ্চিত, আমাদের যদি কিছু করতেই হয় তাহলে খেলায় থাকতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের আধুনিকায়ন করতে হবে। আমাদের বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে হবে। উদ্ভাবন চালিয়ে যেতে হবে এবং আমাদের সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকতে হবে। অন্যথায় আমরা পিছিয়ে যাব এবং আমরা কেবল জিনিসগুলি তাড়া করতে থাকব। তিনি বলেন, মানুষের সাধারণ জীবনেও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।
এটি আমাদের অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়ও প্রবেশ করেছে। বিমানবাহিনীর ভাইস চিফ বলেন, কয়েক বছর আগে যা ছিল অকল্পনীয় বা অবিশ্বাস্য তা আজ বাস্তব। প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপর যুদ্ধের প্রভাব স্পষ্ট করে দিয়েছে যে আমাদের চিন্তার সাথে সাথে আমাদের কাজেও তৎপর হতে হবে। এয়ার মার্শাল সিং বলেন, আজকের সময়ের চাহিদা বিবেচনা করে আমাদের প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও ব্যবস্থা না পেলে আমরা সেই পথ ছাড়তে বাধ্য হব। কারণ এগুলো জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয়। তিনি আরও বলেন, দেশ রক্ষা করা শুধুমাত্র ইউনিফর্ম পরা মানুষের কাজ নয় এবং এখানে উপস্থিত আমাদের সকলের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ যে আমরা এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করি যেখানে আমরা সামগ্রিক লক্ষ্য অর্জনে একে অপরকে সাহায্য করি, যা আমাদের মূল লক্ষ্য। এটা অন্য কারো কাজ নয়…দেশকে রক্ষা করতে হলে সবার দায়িত্ব। এটা শুধু ইউনিফর্ম পরিহিত ব্যক্তির কাজ নয়। বায়ুসেনা কর্তাকে প্রকাশ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করতে এর আগে কখনওই দেখা যায়নি।
তাঁর কথা থেকে এটা বোঝা যাচ্ছে, গত ১০ বছরে মোদি সরকার প্রতিরক্ষায় আত্মনির্ভরতার যে প্রচার করেছে, কিংবা এত কিছু যে বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে সবই তুলনায় কিছুই প্রাপ্তি হল না। কিন্তু বায়ুসেনা কর্তার আশঙ্কা, ‘অস্ত্র সরবরাহের গতি কোথায়?’ সোজা কথায় সামরিক বিভাগের আতঙ্ক, চীন-পাকিস্তানের জোটের বিরুদ্ধে এখনই যুদ্ধ বাঁধলে কী হবে? বায়ুসেনা কর্তার আশঙ্কার বাণী, ‘আজকের দুনিয়ায় নিজেদের স্বার্থ ছাড়া চলে না। তাই আজ যারা আমাদের অস্ত্র দিচ্ছে, আগামী দিনে তারা যে সরবরাহ করবেই, তেমনটা নাও হতে পারে। বায়ুসেনার ১ লক্ষ ১৫ হাজার কোটি টাকার কন্ট্রাক্ট ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। আরও প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকার অর্ডার আসবে।’






