কত টাকা সম্পত্তির মালিক তারেক রহমান? হলফনামায় নিজের সম্পদের খতিয়ান দিলেন বিএনপির শীর্ষনেতা
সেখানেই দেখা যাচ্ছে, রাজনীতির পাশাপাশি তাঁর আয়ের প্রধান উৎস এখন ব্যাংক আমানত ও শেয়ার বাজার।
Truth of Bengal: দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরেই সরাসরি সংসদীয় রাজনীতির ময়দানে নামলেন বিএনপির শীর্ষনেতা তারেক রহমান। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে লড়াই করবেন তিনি। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা এবং অর্জিত সহায়-সম্পত্তির বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরেছেন খালেদা-পুত্র। সেখানেই দেখা যাচ্ছে, রাজনীতির পাশাপাশি তাঁর আয়ের প্রধান উৎস এখন ব্যাংক আমানত ও শেয়ার বাজার।
মনোনয়ন পত্রে তারেক রহমান নিজের পেশা হিসেবে ‘রাজনীতি’ উল্লেখ করেছেন এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে জানিয়েছেন তিনি উচ্চমাধ্যমিক পাশ। বর্তমানে তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মোট মূল্য প্রায় ১ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণই বেশি, যা প্রায় ১ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকার মতো। এর বড় একটি অংশ রয়েছে স্থায়ী আমানত ও শেয়ার বাজারে। হলফনামা অনুযায়ী, তারেকের নামে ৯০ লক্ষ ২৪ হাজার টাকার বেশি ফিক্সড ডিপোজিট এবং ৬৮ লক্ষ টাকার শেয়ার রয়েছে। এ ছাড়াও ব্যাংকে নগদ জমা রয়েছে ৩১ লক্ষ ৫৮ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পত্তি হিসেবে তাঁর নামে ৩ লক্ষ টাকা মূল্যের সামান্য বেশি দুই একর কৃষিজমি রয়েছে।
আর্থিক স্বচ্ছতার প্রমাণ দিতে তারেক রহমান তাঁর আয়করের হিসাবও দাখিল করেছেন। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তাঁর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৬ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা, অর্থাৎ মাসে গড় আয় প্রায় ৫৬ হাজার টাকা। এই আয়ের বিপরীতে তিনি ১ লক্ষ ১ হাজার ৪৫৩ টাকা আয়কর প্রদান করেছেন। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর নামে কোনো ঋণ নেই। নিজের ব্যক্তিগত সম্পদের পাশাপাশি স্ত্রী জুবাইদা রহমানের সম্পদের হিসাবও দিয়েছেন তিনি। পেশায় চিকিৎসক জুবাইদার বার্ষিক আয় তারেকের তুলনায় অনেক বেশি, প্রায় ৩৫ লক্ষ ৬১ হাজার টাকা। জুবাইদার মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৫ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা।
তারেক রহমানের হলফনামায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো তাঁর নামে থাকা মামলার খতিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, ২০০৪ সাল থেকে তাঁর বিরুদ্ধে মোট ৭৭টি মামলা দায়ের হয়েছিল। তবে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর বর্তমানে তাঁর নামে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। সবকটি মামলা থেকেই তিনি ধাপে ধাপে নিষ্পত্তি পেয়েছেন— কোনোটিতে খালাস পেয়েছেন, কোনোটি প্রত্যাহার করা হয়েছে আবার কোনোটি খারিজ হয়ে গেছে। ১৭ বছর পর রাজনীতির মূল স্রোতে ফিরে আসার এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা-১৭ আসন থেকে ভোটার তালিকায় নাম তোলার পর থেকেই কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, আইনি গেরো মুক্ত হয়ে তারেক রহমান নির্বাচনী ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন।






