কলকাতা

আর যেখানে-সেখানে লেখা যাবে না গ্রাফিতি! যাদবপুরে দেওয়াল দখল রুখতে উপাচার্যের কড়া পদক্ষেপ

ক্যাম্পাসের যেখানে-সেখানে আর দেওয়াল লিখন, গ্রাফিতি বা পোস্টার লাগানো যাবে না

Truth of Bengal: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল লিখন, গ্রাফিতি ও পোস্টার ঘিরে চলতি বিতর্কের মধ্যেই এবার সরাসরি বার্তা দিলেন উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার একটি খোলা চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া, শিক্ষক, গবেষক, আধিকারিক এবং কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর আবেদন—ক্যাম্পাসের যেখানে-সেখানে আর দেওয়াল লিখন, গ্রাফিতি বা পোস্টার লাগানো যাবে না। তবে মতপ্রকাশের অধিকার যাতে খর্ব না হয়, তার জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গা চিহ্নিত করে দেওয়া হবে। উপাচার্যের বক্তব্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে স্বাধীন চিন্তা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং মতপ্রকাশের অধিকারের দীর্ঘ ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। জাতীয় আন্দোলনের আবহে গড়ে ওঠা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বরাবরই মুক্ত চিন্তার পরিসর হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সেই স্বাধীনতার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য, মর্যাদা ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষার দায়িত্বও সকলের রয়েছে।

সেই কারণেই যত্রতত্র দেওয়াল লিখন এবং গ্রাফিতি থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে কয়েকটি নির্দিষ্ট জায়গা বেছে দেবে, যেখানে ছাত্রছাত্রী বা অন্যরা তাঁদের মতামত তুলে ধরতে পারবেন। তবে কী লেখা যাবে, তা নিয়েও স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন উপাচার্য। তাঁর মতে, কোনও বক্তব্য যেন উস্কানিমূলক, কুরুচিকর বা জাতীয় ঐক্য ও সংহতির পরিপন্থী না হয়। কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্মান ও অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে—এমন লেখা বা ছবি থেকেও বিরত থাকতে হবে। কোনও পোস্টার বা গ্রাফিতির কারণে যাতে ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট না হয়, সেই বিষয়টিও মাথায় রাখতে বলেছেন তিনি।

যাদবপুরের দেওয়াল লিখন নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। এবিভিপি ও বাম ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর বিজেপি ও এবিভিপি অভিযোগ তোলে, ক্যাম্পাসের একাধিক দেওয়ালে ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান লেখা রয়েছে। বিশেষ করে ‘কিষেনজি রেড স্যালুট’-সহ কয়েকটি দেওয়াল লিখন নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর হুঁশিয়ারির পর রবিবার ক্যাম্পাসের একাধিক ‘বিতর্কিত’ দেওয়াল লিখন চুনকাম করে মুছে দেওয়া হয়। যদিও তার কিছু সময়ের মধ্যেই সেই চুনকাম করা দেওয়ালে ফের কার্ল মার্কসের উদ্ধৃতি লেখেন বাম ও অতি-বাম ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই এবার প্রশাসনিক ভাবে অবস্থান স্পষ্ট করলেন উপাচার্য। তাঁর বার্তা, মতপ্রকাশের অধিকার থাকবে, কিন্তু তার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ব্যবহার করতে হবে এবং সেই মতপ্রকাশও হতে হবে দায়িত্বশীল। ফলে যাদবপুরের দেওয়াল লিখন ঘিরে চলা বিতর্ক এবার নতুন প্রশাসনিক মোড় নিল।