রাজ্যের খবর

বিয়ের ৩ মাসের মধ্যেই অমানুষিক নির্যাতন! বিজেপি বিধায়ক ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে থানায় স্ত্রী

শুভেন্দু অধিকারীর নাম করে হুমকি! শান্তিপুরের বিএমওএইচের বিরুদ্ধে মারাত্মক বধূ নির্যাতনের অভিযোগ স্ত্রীর

মাধব দেবনাথ, নদিয়া: নদিয়ার শান্তিপুরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন। শান্তিপুর ব্লকের ব্লক মেডিকেল অফিসার অব হেলথ (BMOH) তথা এলাকার বিজেপি বিধায়কের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত চিকিৎসক সুজন দাসের বিরুদ্ধে উঠল মারাত্মক বধূ নির্যাতন, মারধর এবং পণের দাবিতে অমানুষিক অত্যাচারের অভিযোগ। বছরের পর বছর ধরে চলা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শেষমেশ সুবিচারের আশায় সরাসরি শান্তিপুর থানার দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁর স্ত্রী শ্রেয়া দাস। অভিযুক্ত চিকিৎসক স্বামী সুজন দাস ছাড়াও তাঁর শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদের নামেও শান্তিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

অভিযোগকারিণী স্ত্রীর দাবি, আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ের মাত্র তিন মাস যেতে না যেতেই তাঁর ওপর নেমে আসে চরম নির্যাতন। অতিরিক্ত পণের দাবিতে লাগাতার তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যাচার করা হতো। শ্রেয়া দেবী আরও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে জানান, তাঁর স্বামী ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নাম ব্যবহার করে তাঁকে প্রতিনিয়ত ভয় দেখাতেন ও মারাত্মক পরিণতির হুমকি দিতেন। দিনের পর দিন এই নারকীয় যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন।

তবে নিজের ও পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিএমওএইচ ড. সুজন দাস। তাঁর পাল্টা দাবি, “আমার বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত চক্রান্তের শিকার বানিয়ে আমাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশ নিরপেক্ষ ও সঠিক তদন্ত করলেই আসল সত্য সামনে আসবে।”

এক উচ্চপদস্থ চিকিৎসক এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের অভিযোগ উঠতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে শান্তিপুর থানার পুলিশ একটি সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সবকটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

Related Articles