আন্তর্জাতিক

Gen Z Protest: নেপালের মসনদে সুশীলা কারকি, কে ইনি?

এই পদক্ষেপ নেপালের বর্তমান রাজনীতির কাছে যতটা বিস্ময়কর, ততটাই আশায় ভরপুর।

Truth Of Bengal: কাঠমান্ডুর রাস্তায় আপাতত কারফিউয়ের নিস্তব্ধতা। এই পরিস্থিতিতেই, নেপালের জেন-জি আন্দোলনকারীরা এক বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চার ঘণ্টা দীর্ঘ ভার্চুয়াল বৈঠকের পর তারা দেশের অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নাম এগিয়ে দিয়েছে। এই পদক্ষেপ নেপালের বর্তমান রাজনীতির কাছে যতটা বিস্ময়কর, ততটাই আশায় ভরপুর।

কেন নির্বাচিত হলেন সুশীলা কার্কি?

বৈঠকে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনও তরুণ যিনি রাজনৈতিক দলে যুক্ত আছেন, তাঁকে নেতৃত্বের অংশ করা হবে না। উদ্দেশ্য ছিল আন্দোলনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও অরাজনৈতিক রাখা। সুশীলা কার্কি বর্তমানে কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। একজন সিভিক অ্যাক্টিভিস্ট ও প্রাক্তন বিচারপতি হিসেবে তাঁকেই এই ভূমিকায় সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করা হয়েছে।

কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ ও যুবনেতা সাগর ধাকালের নামও আলোচনায় আসে। তবে আন্দোলনকারী তরুণরা মেনে নিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্কির মতো ব্যক্তিত্ব, যার ভাবমূর্তি ন্যায়নিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ, তিনিই কেবল জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবেন।

সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেল আগে প্রস্তাব করেছিলেন যে আন্দোলনকারীদের উচিত জাতীয় স্বাধীন পার্টি বা দুর্গা প্রসাইয়ের সঙ্গে কথা বলা। কিন্তু তরুণরা প্রস্তাবটি খারিজ করে দেয়। তারা এমন সব শক্তি থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে চায়, যাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা রয়েছে।

কে এই সুশীলা কার্কি?

সুশীলা কার্কির জন্ম ৭ জুন ১৯৫২ সালে বিরাটনগরে। সাত ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বড়। আইনশাস্ত্রে পড়াশোনা শেষে ১৯৭৯ সালে বিরাটনগরেই আইনজীবী হিসেবে পেশা শুরু করেন। ১৯৮৫ সালে মহেন্দ্র মাল্টিপল ক্যাম্পাস, ধরণ-এ সহকারী শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০০৭ সালে তিনি সিনিয়র অ্যাডভোকেট হন।

২২ জানুয়ারি ২০০৯ সালে তাঁকে সুপ্রিম কোর্টের অ্যাড-হক বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ২০১০ সালে স্থায়ী বিচারপতি হন। ২০১৬ সালে তিনি নেপালের প্রথম মহিলা প্রধান বিচারপতি হন। এটি ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ১১ জুলাই ২০১৬ থেকে ৭ জুন ২০১৭ পর্যন্ত তিনি সুপ্রিম কোর্টের দায়িত্বে ছিলেন।

কার্কির মেয়াদকালে একাধিক বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ২০১৭ সালে তাঁর বিরুদ্ধে মাওবাদী সেন্টার ও নেপালি কংগ্রেস অভিশংসন প্রস্তাব আনে। দেশজুড়ে এর বিরোধিতা হয়। সুপ্রিম কোর্টও সংসদকে তা আটকে দেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং শেষ পর্যন্ত প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়। এই ঘটনায় কার্কি এমন এক ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন, যিনি চাপের মুখেও দৃঢ় থেকেছেন।

কার্কির বিয়ে হয় দুর্গা প্রসাদ সুবেদীর সঙ্গে, যাঁর সঙ্গে তিনি পড়াশোনার সময় বারাণসীতে পরিচিত হন। সুবেদী তখন নেপালি কংগ্রেসের তরুণ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং পঞ্চায়েত শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। এমনকি এক বিমান ছিনতাই ঘটনায় তাঁর নামও সামনে আসে।

বিচার বিভাগ থেকে অবসর নেওয়ার পর কার্কি লেখালিখি শুরু করেন। ২০১৮ সালে তাঁর আত্মজীবনী ‘ন্যায়’ প্রকাশিত হয় এবং ২০১৯ সালে তাঁর উপন্যাস ‘কারা’ প্রকাশিত হয়, যা বিরাটনগর জেলের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে লেখা।

Related Articles