আন্তর্জাতিক

নেপোলিয়নের অমূল্য গয়না চুরি! প্যারিসের বিখ্যাত জাদুঘরে চাঞ্চল্য

ঐতিহাসিক এই গয়নাগুলি তৈরি করা হয়েছিল ১৮০৪ সালে, নেপোলিয়নের অভিষেক উপলক্ষে।

Truth Of Bengal: প্যারিসের বিখ্যাত লুভ্‌র জাদুঘরে রবিবার সকালে দুঃসাহসিক চুরি। খোয়া  যায় ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট এবং সম্রাজ্ঞী জোসেফিনের ঐতিহাসিক গয়না। বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত জাদুঘরে এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় তোলপাড় ফ্রান্স। সূত্র অনুযায়ী, রবিবার সকালে জাদুঘর খোলার কিছুক্ষণ পরই কর্মীরা দেখতে পান একটি প্রদর্শনী ঘরের জানলার কাচ ভাঙা। ভেতরে ঢুকেই দেখা যায়, উধাও হয়ে গিয়েছে নেপোলিয়ন ও জোসেফিনের ব্যবহৃত নয়টি মূল্যবান গয়না, যার মধ্যে রয়েছে নেকলেস, ব্রোচ, আংটি ও অলঙ্কার সেট। ঐতিহাসিক এই গয়নাগুলি তৈরি করা হয়েছিল ১৮০৪ সালে, নেপোলিয়নের অভিষেক উপলক্ষে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, চোরেরা তিনজন ছিল—দু’জন জানলা ভেঙে ভিতরে ঢোকে, আর তৃতীয় জন বাইরে থেকে পাহারা দেয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই তারা গয়নাগুলি তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশের ধারণা, এটি কোনও সাধারণ চুরি নয়—বরং সুপরিকল্পিত ও পেশাদার চক্রের কাজ।ফরাসি সংস্কৃতি মন্ত্রী রাশিদা দাতি এক্স-এ পোস্ট করে লেখেন,’ আজ সকালে লুভ্‌রে একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। কেউ আহত হননি, তবে জাদুঘর আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।‘ এই ঘোষণার পরই জাদুঘরে থাকা হাজার হাজার পর্যটকের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। তড়িঘড়ি করে জাদুঘর খালি করে দেয় পুলিশ। জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা জাদুঘরের শ্যেন নদীমুখী অংশের সংস্কার কাজের সুযোগ নিয়ে ভিতরে ঢোকে। সেখানে থাকা একটি সার্ভিস লিফটের মাধ্যমে তারা নির্দিষ্ট ঘরে পৌঁছে যায় এবং জানলা ভেঙে গয়নাগুলি লুঠ করে।

জাদুঘরের এক কর্মীর কথায়,সবকিছু ঘটেছে কয়েক মিনিটের মধ্যে। তারা ঠিক জানত, কোন ঘরে কী রয়েছে।সকাল সাড়ে দশটার দিকে প্রথম দর্শনার্থীরা প্রবেশ করার সময়ই চুরির ঘটনা ধরা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ এসে জাদুঘর খালি করে দেয় এবং পুরো এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করে।উল্লেখ্য, ১৯১১ সালেও এখান থেকে মোনালিসা চুরি হয়েছিল—যা দু’বছর পরে উদ্ধার হয়। তাই প্রশ্ন উঠছে, এত কড়া নিরাপত্তার মাঝেও কীভাবে ঘটল এই চুরির ঘটনা?পুলিশ জানিয়েছে, নজরদারির ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, এবং দুষ্কৃতীদের খোঁজে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।ফ্রান্সের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ নেপোলিয়ন-জোসেফিনের এই গয়নার অমূল্য সাংস্কৃতিক সম্পদ ফের উদ্ধার হবে কিনা, সেটাই এখন ফ্রান্সবাসীর বড় প্রশ্ন।