Ancestral Home: ‘সত্যজিৎ’-এ কোপ, ভারতের চিঠিতে বিপাকে বাংলাদেশ, বন্ধ পৈতৃক ভিটে ভাঙার কাজ
Bangladesh halts demolition of Satyajit Ray’s ancestral home after backlash from India.
Truth Of Bengal: অবশেষে বন্ধ হল সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ি ভাঙার কাজ (Ancestral Home)। তৈরি করা হয়েছে একটি বিশেষ কমিটিও। কীভাবে বাড়িটি পুনর্গঠন বা সংরক্ষণ করা যায় তা দেখবে নব নির্মিত ওই কমিটি।
ভারত সরকারের চিঠির পর ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ সরকার। ওপার বাংলা জানিয়েছে, এই ঘটনায় দুই বাংলার ‘ভুল বোঝাবুঝি’ তৈরি হয়েছে। বাড়িটির ভগ্নদশা দেখে তার সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে ভাঙা শুরু হয়েছিল। বাড়িটি নতুন করে তৈরি করে আধুনিক কংক্রিটের ভবন বানিয়ে সেটাকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র করার পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের প্রশাসনের (Ancestral Home)।
[আরও পড়ুন: Nitish Kumar: নীতীশের নির্বাচনী মাস্টারস্ট্রোক, ১২৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ একেবারে ফ্রি]
সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক ভিটে বাড়ি ভেঙে ফেলার কথা জানতে পেরে প্রথম গর্জে উঠেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘খবরে প্রকাশ যে, বাংলাদেশের ময়মনসিংহ শহরে সত্যজিৎ রায়ের ঠাকুরদা, স্বয়ং স্বনামধন্য সাহিত্যিক-সম্পাদক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর স্মৃতিজড়িত তাঁদের পৈতৃক বাড়িটি নাকি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। ভাঙার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল বলে খবর প্রকাশিত। এই সংবাদ অত্যন্ত দুঃখের। রায় পরিবার বাংলার সংস্কৃতির অন্যতম ধারক ও বাহক। উপেন্দ্রকিশোর বাংলার নবজাগরণের একজন স্তম্ভ। তাই আমি মনে করি, এই বাড়ি বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।‘
সেই সঙ্গে বাড়িটিকে রক্ষা করতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। বিষয়টির ওপর ভারত সরকারকে নজর দেওয়ার অনুরোধ করে তিনি লেখেন, ‘আমি বাংলাদেশ সরকার ও ওই দেশের সমস্ত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কাছে আবেদন করব, এই ঐতিহ্যশালী বাড়িটিকে রক্ষা করার জন্য। ভারত সরকার বিষয়টিতে নজর দিন (Ancestral Home)।’
এরপরই বুধবার ভারত সরকার বিষয়টির ওপর দৃষ্টিপাত করে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি দেন। সেখানে সত্যজিৎ রায়ের পৈত্রিক বাড়ি ভাঙার সিদ্ধান্তকে পুর্বিবেচনা করতে বলা হয়। বাড়ির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, বাংলার সংস্কৃতির কথাও উল্লেখ করা হয় চিঠিতে। বাড়ি ভাঙার পরিবর্তে তা পুনর্নির্মাণ করে সাহিত্য়ের মিউজিয়াম করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যনে দুই দেশের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধকে তুলে ধরা হবে বলে জানানো হয়েছে। এতে ভারত সরকারও সহযোগিতা করবে বলে জানানো হয়েছিল।
[আরও পড়ুন: Narayangarh: চিরন্তন প্রেমের মর্মান্তিক পরিণতি, স্ত্রীর চিতার পাশে গলায় দড়ি স্বামীর]
এদিকে পৈত্রিক বাড়ি ভাঙার ঘটনায় বুধবার সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খোলেন সত্যজিৎ রায়ের এক মাত্র পুত্র সন্দীপ রায়। তিনি বলেন, “১৯৮৭ সালে যখন সুকুমার রায়ের উপর তথ্যচিত্র করছিলেন বাবা, তখন ওনার বাংলাদেশে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। পৈতৃক বাড়িতেই শুটিং করার ইচ্ছা ছিল। তার আগে একজন সহকারীকে পাঠান। তিনি ছবি তুলে এনে দেখানোর পর ওনার মন ভেঙে গিয়েছিল। মাঝে শুনেছিলাম বাড়িটি সারানো হবে। কিন্তু এখন দেখছি অন্য ব্যাপার। আমি সেখানে কোনদিন যাইনি। তবে বাবা হয়তো অনেক কাল আগে গিয়েছিলেন। সেই কারণে আমাদের পক্ষে তা বলা মুশকিল। তবে এটুকু বলতে পারি বাড়ির অবস্থা খুব খারাপ ছিল (Ancestral Home)।”






