ছাড়ছে না সিবিআই! উন্নাও কাণ্ডে প্রাক্তন বিজেপি বিধায়কের সাজা স্থগিতের বিরুদ্ধে বিশেষ আবেদন
সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিচারাধীন থাকলেও, গত ২৩ ডিসেম্বর দিল্লি হাইকোর্ট তাঁর সাজা স্থগিত করে জামিন মঞ্জুর করে।
Truth Of Bengal: দিল্লি হাইকোর্টের রায়ে বড় ধাক্কা খেলেও পিছু হটছে না কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। উন্নাও ধর্ষণ মামলায় প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারের যাবজ্জীবন সাজা স্থগিত ও জামিন মঞ্জুরের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। শুক্রবার সিবিআই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দিল্লি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায় খুঁটিয়ে পর্যালোচনা করে দ্রুত বিশেষ অনুমতি আবেদন (এসএলপি) দায়ের করা হবে।
২০১৭ সালের বহুচর্চিত উন্নাও ধর্ষণ মামলায় ২০১৯ সালে ট্রায়াল কোর্ট কুলদীপ সিং সেঙ্গারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছিল। সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিচারাধীন থাকলেও, গত ২৩ ডিসেম্বর দিল্লি হাইকোর্ট তাঁর সাজা স্থগিত করে জামিন মঞ্জুর করে। আদালতের যুক্তি ছিল, সেঙ্গার ইতিমধ্যেই সাত বছর পাঁচ মাস কারাবাস করেছেন। এই সিদ্ধান্তেই প্রবল আপত্তি জানিয়েছে সিবিআই।
শুধু সিবিআই নয়, এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আগেই সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন দায়ের হয়েছে। আইনজীবী অঞ্জলে প্যাটেল ও পূজা শিল্পকরের করা ওই আবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রায়াল কোর্ট যেখানে মন্তব্য করেছিল যে অভিযুক্তকে স্বাভাবিক জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত জেলে থাকতে হবে, সেখানে হাইকোর্ট সেই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ উপেক্ষা করেছে। আবেদনকারীদের বক্তব্য, আইনি ব্যাখ্যার পাশাপাশি তথ্যপ্রমাণ বিচারেও গুরুতর ভুল হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, কুলদীপ সিং সেঙ্গারের বিরুদ্ধে শুধু ধর্ষণের অভিযোগই নয়, একাধিক গুরুতর অপরাধে যুক্ত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত। তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব, আর্থিক ক্ষমতা এবং অপরাধপ্রবণতার দিকগুলি আদালতের বিবেচনায় আসা উচিত ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে অভিযোগ রয়েছে, ধর্ষণ মামলায় মুখ বন্ধ করাতে বিচারাধীন অবস্থাতেই নির্যাতিতার বাবাকে হেফাজতে খুনের ছক কষেছিলেন সেঙ্গার—এই বিষয়টিও যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।
যদিও দিল্লি হাইকোর্ট জামিনের ক্ষেত্রে একাধিক কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। নির্দেশ অনুযায়ী, সেঙ্গারকে ১৫ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ড ও সমপরিমাণ তিনজন জামিনদার দিতে হবে। তবে বাস্তবে তিনি এখনই জেল থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। কারণ, নির্যাতিতার বাবার হেফাজতে মৃত্যুর মামলায় তিনি ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এবং সেই মামলায় এখনও জামিন মেলেনি।
উল্লেখ্য, নাবালিকা নির্যাতিতাকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন কুলদীপ সিং সেঙ্গার। সেই মামলার পাশাপাশি নির্যাতিতার বাবার মৃত্যুর ঘটনাও দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। ওই মৃত্যুর মামলায় তাঁর সাজা স্থগিতের আবেদনও এখনও আদালতে বিচারাধীন।
এই পরিস্থিতিতে সিবিআইয়ের স্পষ্ট বক্তব্য, এত গুরুতর অপরাধে সাজা স্থগিত ও জামিন দেওয়া ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। তাই দিল্লি হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়াই একমাত্র পথ বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা। এখন শীর্ষ আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর গোটা দেশের।




