দেশ

শীর্ষ আদালতে বড় স্বস্তি হিমন্তের! ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক’ ভিডিও ও মিঞা মন্তব্য মামলা খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

মামলাটি শোনার সময় সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে

Truth of Bengal: অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে ওঠা একগুচ্ছ অভিযোগ নিয়ে দায়ের করা মামলা সোমবার খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। নির্বাচনী আবহে মুখ্যমন্ত্রীর বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য এবং বিশেষ একটি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে দেওয়া বিবৃতির প্রেক্ষিতে সিট তদন্তের দাবি জানিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মামলাকারীরা। তবে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এই বিষয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে না এসে আবেদনকারীদের প্রথমে গুয়াহাটি হাই কোর্টে যাওয়া উচিত ছিল।

মামলাটি শোনার সময় সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের উচিত সংবিধানের গণ্ডির মধ্যে থেকে কাজ করা। তবে ছোটখাটো রাজনৈতিক সংঘাত নিয়ে সরাসরি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের কড়া নাড়ার প্রবণতা নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করেছেন বিচারপতিরা। প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন যে, কেন গুয়াহাটি হাই কোর্টের ওপর আস্থা না রেখে সরাসরি এখানে আসা হলো।

মামলাকারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি সওয়াল করতে গিয়ে জানান, অসমের মুখ্যমন্ত্রী লাগাতার একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে আক্রমণ করে চলেছেন, যা সংবিধানের মূল কাঠামোর পরিপন্থী। সাধারণ নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার স্বার্থে সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। সিঙ্ঘভি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন যে, খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অসমের পুলিশ বা সিট কতটা নিরপেক্ষ তদন্ত করতে পারবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

শুনানি চলাকালীন সিঙ্ঘভি আবেদন করেন যে, গুয়াহাটি হাই কোর্টের পরিবর্তে মামলাটি অন্য কোনো রাজ্যের হাই কোর্টে স্থানান্তরিত করা হোক। কিন্তু প্রধান বিচারপতি এই আর্জি সরাসরি নাকচ করে দেন। তিনি জানান, অন্য কোনো হাই কোর্টে মামলা পাঠানোর অর্থ হলো গুয়াহাটি হাই কোর্টের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা, যা বিচারব্যবস্থার প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য সঠিক বার্তা নয়। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি খারিজ করে আবেদনকারীদের গুয়াহাটি হাই কোর্টেই যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

Related Articles