আইআইটির স্বপ্ন ভেঙেছিল মাত্র ২ নম্বরে, সেই পড়ুয়াই আজ ইসরোর বিজ্ঞানী
মিরাটের দেওয়ান পাবলিক স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র সঙ্কেত ২০২১ সালে জেইই অ্যাডভান্সড পরীক্ষায় মাত্র ২ নম্বরের জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি।
Truth of Bengal: মাত্র ২ নম্বরের জন্য জেইই অ্যাডভান্সড পরীক্ষায় ব্যর্থতা। অনেকেই যখন অন্য পথ বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন, তখন হাল ছাড়েননি মিরাটের সঙ্কেত কুমার। এক বছরের কঠোর পরিশ্রম, অদম্য জেদ এবং পরিবারের অকুণ্ঠ সমর্থনের জোরে আজ তিনি দেশের অন্যতম গর্বের প্রতিষ্ঠান ইসরোতে বিজ্ঞানী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর এই সাফল্যের কাহিনি ইতিমধ্যেই বহু পড়ুয়ার কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
মিরাটের দেওয়ান পাবলিক স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র সঙ্কেত ২০২১ সালে জেইই অ্যাডভান্সড পরীক্ষায় মাত্র ২ নম্বরের জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি। তবে ব্যর্থতায় ভেঙে না পড়ে তিনি এক বছর ‘ড্রপ’ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, প্রস্তুতির জন্য তিনি কোনও নামী কোচিং প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নেননি। ইউটিউবের বিভিন্ন অনলাইন ক্লাস এবং আগের বছরের প্রশ্নপত্র সমাধান করেই তিনি নিজেকে তৈরি করেন।
পরের বছর জেইই মেন এবং জেইই অ্যাডভান্সড— দুই পরীক্ষাতেই সাফল্য পান সঙ্কেত। এরপর তিনি তিরুবনন্তপুরমের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইআইএসটি)-তে এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ার সুযোগ পান। আইআইএসটি-তে পড়াকালীন সঙ্কেত ভিড়ের বাইরে গিয়ে ‘ভাইব্রেশনস অ্যান্ড অ্যাকোস্টিকস’ বিষয়টি বেছে নেন। পুরো ব্যাচে তিনিই ছিলেন এই বিষয়ে একমাত্র ছাত্র। তাঁর মেধা ও গবেষণার দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে জাপানের ‘শিনরা ইনক’ সংস্থা তাঁকে একটি উন্নত ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষণা প্রকল্পে কাজের সুযোগ দেয়। সেখানে তিনি তিন মাস গবেষণার কাজ করেন।
আইআইএসটি থেকে ৮.২ সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক হওয়ার পর ইসরোর ইন্টারভিউয়ের ডাক পান সঙ্কেত। সফলভাবে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি বিজ্ঞানী পদে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রথম পোস্টিং হতে চলেছে তামিলনাড়ুর মহেন্দ্রগিরিতে অবস্থিত ইসরো প্রপালশন কমপ্লেক্সে, যেখানে রকেট উৎক্ষেপণের আগে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক কাজ সম্পন্ন করা হয়।
সঙ্কেতের সাফল্যের আর একটি বিশেষ দিক হল, ইসরোর ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার বিষয়টি তিনি পরিবারকে আগে থেকে জানাননি। সফল হওয়ার পরই মা-বাবাকে এই সুখবর দিয়ে চমকে দেন তিনি। ছেলের সাফল্যে গর্বিত মা সুনীতা সিং, বাবা গুলশান কুমার এবং ভাই হর্ষিত কুমার। তাঁদের কথায়, সন্তানদের উপর বিশ্বাস রাখা এবং সব পরিস্থিতিতে তাদের পাশে দাঁড়ানোই অভিভাবকদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। সঙ্কেতের স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক অসীম দুবে জানান, ছাত্রজীবন থেকেই সঙ্কেত অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং লক্ষ্যনিষ্ঠ ছিলেন। তাঁর এই সাফল্য ফের প্রমাণ করল, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে কোনও স্বপ্নই অধরা থাকে না।





