দেশ

Ride Sharing Apps: উবের-ওলা-র ‘বকশিশ’ প্রথায় কোপ কেন্দ্রের! অ্যাপ খুললেই আর দিতে হবে না বাড়তি টাকা

Truth of Bengal: রাইড শেয়ারিং অ্যাপগুলোর ‘অ্যাডভান্স টিপ’ বা অগ্রিম বকশিশ ফিচারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। এখন থেকে উবার, ওলা বা র‍্যাপিডো-র মতো প্ল্যাটফর্মগুলো যাত্রা শুরুর আগে যাত্রীদের কাছ থেকে কোনোভাবেই টিপস বা বকশিশ চাইতে পারবে না। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রক (MoRTH) গত ১৫ ডিসেম্বর একটি সার্কুলারের মাধ্যমে ‘মোটর ভেহিকেলস অ্যাগ্রিগেটর গাইডলাইনস, ২০২৫’ সংশোধন করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যাত্রীরা যদি চালককে স্বেচ্ছায় কোনো বকশিশ দিতে চান, তবে সেই অপশনটি শুধুমাত্র ‘যাত্রা শেষ হওয়ার পর’ অ্যাপে দৃশ্যমান হবে। বুকিং করার সময় বা যাত্রা চলাকালীন কোনোভাবেই এই ফিচার রাখা যাবে না।

নতুন এই নির্দেশিকায় নারী যাত্রীদের নিরাপত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত বিধির ১৫.৬ ধারা অনুযায়ী, অ্যাপগুলোতে এখন থেকে নারী যাত্রীদের জন্য ‘নারী চালক’ বেছে নেওয়ার বিকল্প থাকতে হবে। তবে এই সুবিধাটি সংশ্লিষ্ট এলাকায় নারী চালকের উপলব্ধতার ওপর নির্ভর করবে। এই পদক্ষেপের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল চলতি বছরের মে মাসে, যখন সেন্ট্রাল কনজিউমার প্রোটেকশন অথরিটি (CCPA) অগ্রিম বকশিশ নেওয়ার এই পদ্ধতিকে ‘অন্যায্য বাণিজ্যিক প্রথা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। গ্রাহকদের কাছ থেকে অভিযোগ এসেছিল যে, এই ফিচারের কারণে ক্যাব বুকিং অনেকটা নিলামে পরিণত হয়েছে। যারা বেশি টাকা বকশিশ দিতে পারছেন, শুধুমাত্র তারাই দ্রুত গাড়ি পাচ্ছেন।

মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যাত্রীদের দেওয়া বকশিশের পুরো টাকাই চালকের অ্যাকাউন্টে পাঠাতে হবে। অ্যাগ্রিগেটর সংস্থাগুলো এই টাকা থেকে কোনো অংশ কাটতে পারবে না। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে বেঙ্গালুরুতে ‘নাম্মা যাত্রী’ অ্যাপ প্রথম এই অগ্রিম বকশিশের মডেল চালু করে। পরবর্তীতে র‍্যাপিডো, ওলা এবং উবার তাদের প্ল্যাটফর্মে এই ফিচার যুক্ত করে গ্রাহকদের বাড়তি টাকা দিতে উৎসাহিত করতে শুরু করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী চালক বেছে নেওয়ার নতুন নিয়মের ফলে অ্যাপ-ভিত্তিক সংস্থাগুলো এখন আরও বেশি করে নারী চালক নিয়োগে বাধ্য হবে। বর্তমানে এই ক্ষেত্রে নারী কর্মীদের হার ১ শতাংশের কম। কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে এই সংশোধিত নিয়ম দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে।

Related Articles